মোঃ কবির হোসাইন পলাশ সিকদার, স্টাফ রিপোর্টার:
আশুলিয়ায় অপহরণের ১৩ দিন পর জোনায়েদ (৫) নামের এক শিশুর গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে র্যাব-৪। এসময় অপহরণকারী ঘাতক মোরসালিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে আশুলিয়ার শ্রীপুরের এজিজগেটের ফারুক নগর এলাকার বড়টেক জঙ্গল থেকে শিশু জোনায়েদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আজ শনিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৪, সিপিসি-২ এর স্কোয়াড্রন লিডার মো. নাজমুল ইসলাম।
নিহত জোনায়েদ গাইবান্ধা জেলা সদরের খামার বোয়ালি গ্রামের সাগর মিয়ার ছেলে। পোশাক শ্রমিক বাবা-মায়ের সাথে আশুলিয়ার শ্রীপুরের এজিজ গেট এলাকায় মিয়াজ উদ্দিন ভান্ডারির বাড়িতে ভাড়া থাকতো সে।
র্যাব জানায়, গত ১৬ আগস্ট ওই এলাকা থেকে খেলাধুলার কথা বলে জোনায়েদকে নিয়ে একটি জঙ্গলে আটকে রাখে মোরসালিন। পরে জোনায়েদের পরিহিত টি-শার্ট দিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করেন। এসময় জোনায়েদ মারা গেলে তাকে ওই জঙ্গলে ফেলে রেখে চলে যায় মোরসালিন। পরদিন আবার ঘটনাস্থলে গিয়ে জোনায়েদের মরদেহ লতাপাতা দিয়ে ঢেকে রেখে যায় ঘাতক। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত ঘটনাস্থলে আর যায়নি মোরসালিন। পরে গত ২৮ আগস্ট জোনায়েদের মায়ের কাছে ফোন করে ১০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে, শিশুকে ফেরত দিলে বাকি ৩০ হাজার টাকা পরিশোধের জন্য বলে মোরসালিন। সেই ফোনের সূত্র ধরে আজ মোরসালিনকে গ্রেপ্তার করে জোনায়েদের মরদেহ উদ্ধার করে র্যাব-৪।
গ্রেপ্তার মোরসালিন রাজশাহী জেলার গোদাগারী থানার কাপাসিয়া পাড়ার মামুন আলীর ছেলে। তিনি আশুলিয়ার শ্রীপুরের এজিজ গেট এলাকায় মিয়াজ উদ্দিন ভান্ডারির বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
শিশুটির মা জাহানারা বেগম ও তার খালা পরী বেগম বলেন, আমার ছেলে গত ১৬ আগস্ট নিখোঁজ হয়। পরে ওই দিনেই আশুলিয়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করি আমরা।
জোনায়েদের বাবা সাগর মিয়া বলেন, ঘটনার পরের দিন আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক মাসুদ রানা তদন্ত করতে আসেন। পুলিশের পিছনে প্রায় ১২ দিন ঘুরে অবশেষে আমরা র্যাবের কাছে যাই। পরে র্যাব আজ সন্ধ্যায় ফারুক নগরের একটি জঙ্গল থেকে আমার ছেলের হাড়গোড় উদ্ধার করে। আমরা ছেলের টিশার্ট দেখে জোনায়েদকে শনাক্ত করি। র্যাব আমার ছেলের হত্যাকারীকে আটকও করেছেন। আমরা মোরসালিনের ফাঁসি চাই।
র্যাব-৪, সিপিসি-২ এর স্কোয়াড্রন লিডার মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার মোরসালিন প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন যে, তার বেশ কিছু টাকা ঋণ হলে জোনায়েদকে অপহরণ করে আটকে রাখে। উদ্দেশ্য ছিল অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায় করে ঋণের টাকা পরিশোধ করা। তিনি বলেন, আমরা আজ মুক্তিপণের টাকা দাবি করা ফোন কলের সূত্র ধরে জোনায়েদের মরদেহ উদ্ধার করি এবং ঘাতক মোরসালিনকে আটক করি। নিহত শিশু জোনায়েদের পরিবারের দাবী, তার শিশুর হত্যাকাণ্ডের সাথে যে জড়িত তাকে দ্রুত শাস্তির আওতায় এনে আদালতের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা।
ছবির ক্যাপশন: আশুলিয়ায় শিশু জোনায়েদকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় শুক্রবার অভিযুক্ত মোরসালিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।