শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৩৫ অপরাহ্ন

বিড়িতে সুখ টান দিয়েও দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাইলে আল্লাহ মাফ করে দিতে পারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
                                             
  •   Update Time : শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১k Time View  
  •                                      
                                   
                               

ঝালকাঠি-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ড. ফয়জুল হক একটি নির্বাচনি উঠান বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যের কারণে আলোচনায় এসেছেন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে ঝালকাঠির রাজাপুর এলাকায় আয়োজিত ওই সভায় তিনি ভোট চাইতে গিয়ে দৈনন্দিন জীবনের উদাহরণ টেনে বক্তব্য দেন, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সভার ভিডিওটি “Dr. Fayzul Huq The Youth Leader of Bangladesh” নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে লাইভ সম্প্রচার করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার রাতে ভিডিওটি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হয়ে যায়।

বক্তব্যে ড. ফয়জুল হক বলেন, সাধারণ মানুষ প্রতিদিন যেসব ছোটখাটো অভ্যাসের সঙ্গে জড়িত—যেমন বিড়ি খাওয়া বা চায়ের দোকানে আড্ডা—সেগুলোকেও নির্বাচনি প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কেউ যদি প্রতিদিন ৫ বা ১০টা বিড়ি খান, তাহলে সেই বিড়ি কিনতে গিয়ে দোকানির সঙ্গে আলাপচারিতার সময় দেশের অবস্থা নিয়ে কথা বলা এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে মত প্রকাশ করা যেতে পারে। তিনি এটিকে গল্পের ছলে বলা কথা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এমনভাবে কথা বললে আশপাশের মানুষও আগ্রহী হয়ে আলোচনায় যুক্ত হতে পারে।

ভিডিওতে আরও শোনা যায়, তিনি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বলেন—কেউ হয়তো জীবনে কখনো ইবাদতের সুযোগ পায়নি, কিন্তু যদি সেই ব্যক্তি সাধারণ কথাবার্তার মধ্যেই ভালো কাজের দাওয়াত দেয় বা ন্যায়ের পক্ষে কথা বলে, তাহলে আল্লাহ চাইলে তাকে ক্ষমা করতে পারেন এবং তার জীবনে কল্যাণ আনতে পারেন। এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি মানুষের দৈনন্দিন কাজের মধ্যেও ভালো উদ্দেশ্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

পুরুষ ভোটারদের উদ্দেশে তিনি পরামর্শ দেন, অল্প টাকায় চা খেয়ে বেশি সময় গল্প-আড্ডা করতে এবং সেই আড্ডায় নিজের প্রার্থীর পক্ষে কথা বলতে। তার ভাষায়, ৫ টাকার চা খেয়ে ১৫ টাকার গল্প করলে রাজনৈতিক বার্তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে এবং আশপাশের আরও কয়েকজন একই কথায় সায় দেবে।

নারী ভোটারদের প্রসঙ্গে ড. ফয়জুল হক বলেন, নির্বাচনের দিন ও তার আগের রাতে সচেতন থাকতে হবে। তিনি বলেন, ভোটের রাতে ঘুমিয়ে না থেকে পরিবারের সবাইকে নিয়ে প্রস্তুত থাকতে হবে, ভালো খাবার রান্না করে স্বামী ও আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে। ভোটগ্রহণ ও গণনা শেষ হওয়ার পর বিজয় মিছিল করে ঘরে ফিরে বিশ্রাম নেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

সব মিলিয়ে, ড. ফয়জুল হকের বক্তব্যে দৈনন্দিন জীবন, ধর্মীয় ভাবনা ও নির্বাচনি কৌশল একসঙ্গে উঠে এসেছে। এই বক্তব্যের ভাষা ও উপস্থাপন ভিন্নধর্মী হওয়ায় তা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয় এবং বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 dailydhakabani
themesba-lates1749691102