রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ

বাংলাদেশের ওপর নজর রাখতে নতুন নৌঘাঁটি বানাচ্ছে ভারত

ঢাকা বানী ডেস্ক
                                             
  •   Update Time : রবিবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৯k Time View  
  •                                      
                                   
                               

চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ও সামরিক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে ক্রমেই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছে ভারত। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশসহ বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগর অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান নৌ-তৎপরতার ওপর নিবিড় নজরদারি জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি। এর অংশ হিসেবে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী হলদিয়ায় একটি নতুন নৌঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

রোববার (১১ জানুয়ারি) ভারতীয় প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম *ইন্ডিয়া টুডে*-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের নৌবাহিনীর একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন—সাম্প্রতিক সময়ে বঙ্গোপসাগরের উত্তরাংশে চীনা নৌবাহিনীর উপস্থিতি ও তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতাও আগের তুলনায় ঘনিষ্ঠ হচ্ছে।

ভারতীয় নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তারা একাধিকবার পাকিস্তান সফর করেছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা জোরদারে বেশ কিছু চুক্তি ও সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা নয়াদিল্লির দৃষ্টিতে কৌশলগত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব বিষয় সমন্বিতভাবে বিবেচনা করেই নতুন নৌঘাঁটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রস্তাবিত এই নৌঘাঁটিটি কলকাতা থেকে আনুমানিক ১০০ কিলোমিটার দূরে হলদিয়ায় নির্মিত হবে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অবস্থান থেকে হুগলি নদীপথ ব্যবহার করে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বঙ্গোপসাগরে পৌঁছাতে পারবে ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ ও নৌসেনারা। এতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো এবং নজরদারি কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

নৌঘাঁটি নির্মাণের ক্ষেত্রে হলদিয়া ডক কমপ্লেক্সকে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন নৌবাহিনীর অপারেশনাল সুবিধা বাড়বে, অন্যদিকে নতুন করে বড় পরিসরে অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজন কমে আসবে। এতে সময় ও ব্যয়—উভয়ই সাশ্রয় হবে বলে মনে করছে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

ভারতীয় নৌবাহিনী সূত্র জানিয়েছে, নতুন এই ঘাঁটিতে মোতায়েন করা হবে একাধিক ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফট (এফআইসি) এবং নিউ ওয়াটার জেট ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফট (এনডব্লিউজেএফএসি)। এসব অত্যাধুনিক ও দ্রুতগামী সামরিক নৌযানের গতি ঘণ্টায় প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ নট, অর্থাৎ প্রায় ৭৪ থেকে ৮৩ কিলোমিটার পর্যন্ত। বিশ্বে দ্রুতগতির সামরিক নৌযানের তালিকায় ভারতীয় নৌবাহিনীর এফআইসি ও এনডব্লিউজেএফএসি সিরিজের জাহাজগুলোকে অত্যন্ত কার্যকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এই নৌযানগুলোকে সিআরএন-৯১ স্বয়ংক্রিয় মেশিনগানসহ আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত করা হবে। পাশাপাশি ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি সুইসাইডাল ড্রোন ‘নাগাস্ত্র’ সিস্টেম যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে, যা নজরদারি ও আক্রমণ—উভয় ক্ষেত্রেই নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াবে।প্রস্তাবিত নৌঘাঁটিতে সার্বক্ষণিকভাবে প্রায় ১০০ জন নৌ কর্মকর্তা ও সৈনিক মোতায়েন থাকবেন বলে জানা গেছে। তাদের মাধ্যমে ঘাঁটির নিরাপত্তা, নজরদারি এবং অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

সব মিলিয়ে, বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে চীনা যুদ্ধজাহাজের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি, বাংলাদেশ-চীন সামরিক সহযোগিতা এবং পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘন ঘন যোগাযোগ—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে হলদিয়ায় নতুন নৌঘাঁটি নির্মাণে এগোচ্ছে ভারত। কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 dailydhakabani
themesba-lates1749691102