
ইরানজুড়ে চলমান নজিরবিহীন বিক্ষোভ ও অস্থিরতা কাটিয়ে দেশের পরিস্থিতি এখন ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।সোমবার (১২ জানুয়ারি) তেহরানে নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই দাবি করেন। আরাঘচি জানান, গত সপ্তাহান্তে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সহিংসতার মাত্রা ব্যাপক বৃদ্ধি পেলেও বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে।
খামেনি তার পোস্টে লিখেছেন, ‘যিনি দম্ভের সঙ্গে বসে সারা বিশ্বকে বিচার করছেন, তিনি জেনে রাখুন—ফেরাউন, নমরুদ ও রেজা শাহর মতো অহংকারী শাসকেরা যখন ক্ষমতার চূড়ায় ছিলেন, তখনই তাদের পতন হয়েছিল। তার (ট্রাম্প) পতনও অনিবার্য।’ খামেনির এই মন্তব্য ট্রাম্পের ‘গ্রেট ইরান’ গড়ার আহ্বানের বিপরীতে তেহরানের অনমনীয় অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে।আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে ইরানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে আরাঘচির আজকের বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তেহরান এখন বহির্বিশ্বের কাছে দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। একই সঙ্গে ট্রাম্পের সামরিক হুমকির মুখে নিজেদের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি ও কূটনৈতিক আলোচনার পথ দুটোই খোলা রাখার কৌশল নিয়েছে ইরান সরকার। বর্তমান এই সংকটময় মুহূর্তে তেহরানের রাজপথ শান্ত থাকলেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ এক নতুন মোড় নিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।