
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শালমারা ইউনিয়নের দামগছা এলাকায় শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঘিরে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। কনফিডেন্ট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের পরিচালক মোতাকাব্বের হোসেনের বিরুদ্ধে উপজেলা থেকে বরাদ্দপ্রাপ্ত সরকারি সুযোগ–সুবিধা ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া যায়।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষা বিস্তারের নামে যে বরাদ্দ ও সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, তা প্রকৃত শিক্ষার মান উন্নয়নের পরিবর্তে পরিণত হয়েছে বাণিজ্যে। অভিযোগ রয়েছে—ভর্তি, বই ও বিভিন্ন কার্যক্রমের নামে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ।
একজন ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীর অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, “এ যেন দেখার কেউ নাই। সরকারি বইয়ের জন্য সবাই যদি ২০০ টাকা দেয়, তাহলে আমাকেও দিতে হবে—এমন চাপ দেওয়া হয়।” তার মতে, সরকারি পাঠ্যপুস্তক বিতরণে অর্থ নেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: মাহমুদুন্নবীকে অবহিত করা হলে তিনি বলেন, “টাকার বিনিময়ে পাঠ্যপুস্তক বিক্রি করার কোনো অধিকার কারও নেই। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, সরকার যেখানে শিক্ষা সহজলভ্য করতে চায়, সেখানে কীভাবে একটি প্রতিষ্ঠান সরকারি সুযোগকে পুঁজি করে শিক্ষাকে পণ্যে পরিণত করতে পারে? শিক্ষা কি এখন টাকা ছাড়া পাওয়া যায় না?আরও অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত নিয়ম ও নীতিমালা উপেক্ষা করে স্কুল পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে ক্ষুণ্ন হচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অনিয়ম অব্যাহত থাকলে সমাজে বৈষম্য আরও বাড়বে। শিক্ষা হয়ে উঠবে শুধু বিত্তবানদের অধিকার—যা সংবিধানের চেতনার পরিপন্থী।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, শিক্ষা কোনো ব্যবসা নয়—এটি একটি জাতির মেরুদণ্ড।প্রশ্ন রয়ে যায়, প্রশাসন কি এই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করবে? নাকি সবকিছু আগের মতোই চলতে থাকবে?