
চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২১ এপ্রিল থেকে সারা দেশে একযোগে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) শিক্ষা বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবারের এসএসসি পরীক্ষার তত্ত্বীয় (লিখিত) অংশ ২১ এপ্রিল শুরু হয়ে ২০ মে পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। পরীক্ষার সময়সূচি অনুযায়ী, নির্ধারিত দিনগুলোতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ভিত্তিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ৭ জুন থেকে ১৪ জুনের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। ব্যবহারিক পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতেই আয়োজন করা হবে।
উল্লেখ্য, সাধারণত প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসে এসএসসি এবং এপ্রিল মাসে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হলেও গত বছর এবং চলতি বছর সেই নিয়মে পরিবর্তন এসেছে। শিক্ষা কার্যক্রমের সময়সূচিতে নানা বাস্তবতার কারণে পরীক্ষার সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বোর্ড পরীক্ষার্থীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে। সেগুলো হলো—
১. পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষা কক্ষে উপস্থিত হয়ে নিজ নিজ আসনে বসতে হবে।
২. প্রশ্নপত্রে যেভাবে সময় উল্লেখ থাকবে, সেই সময় অনুযায়ীই পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।
৩. পরীক্ষার ক্ষেত্রে প্রথমে বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) এবং পরে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়) অংশ অনুষ্ঠিত হবে। এই দুই অংশের মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না।
৪. পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে তিন দিন আগে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছ থেকে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করবে।
৫. শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা এবং ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়গুলোর মূল্যায়ন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। প্রাপ্ত নম্বর সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রের মাধ্যমে বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইনে পাঠাবে।
৬. পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই উত্তরপত্রের ওএমআর ফরমে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোডসহ সব তথ্য সঠিকভাবে লিখে বৃত্ত ভরাট করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না।
৭. একজন পরীক্ষার্থীকে বহুনির্বাচনি, সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়) এবং ব্যবহারিক—এই তিন অংশেই পৃথকভাবে পাস করতে হবে।
৮. পরীক্ষার্থী কেবল নিবন্ধনপত্রে উল্লেখিত বিষয়সমূহের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। ভিন্ন কোনো বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হবে না।
৯. পরীক্ষা শুরুর অন্তত সাত দিন আগে সব পরীক্ষার্থীর মাঝে প্রবেশপত্র বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে কোনো জটিলতা সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধান দায়ী থাকবেন।
১০. পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষাকক্ষে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবে।
১১. কেন্দ্রসচিব ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি বা পরীক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহন বা ব্যবহার করতে পারবে না।
১২. সৃজনশীল/রচনামূলক, বহুনির্বাচনি ও ব্যবহারিক—সব অংশের পরীক্ষায় একই উপস্থিতি পত্র ব্যবহার করা হবে।
১৩. ব্যবহারিক পরীক্ষা স্ব স্ব পরীক্ষাকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।
১৪. পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের সাত দিনের মধ্যে পুনঃনিরীক্ষণের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়া, সময়সূচি ও অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য দৈনিক পত্রিকা এবং শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।
শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত নিয়ম-কানুন মেনে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এবং সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতার অনুরোধ করেছে।