বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:০৭ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
হবিগঞ্জে এনসিপির অন্তর্বিরোধ, ১৩ নেতা একযোগে পদত্যাগ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে উত্তেজনা সৃষ্টি করা হচ্ছে: সালাহউদ্দিন আহমদ ক্ষমতায় গেলে কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে: তারেক রহমান সাভারে ধানের শীষের বিশাল জনসমুদ্র, সেবক হওয়ার অঙ্গীকার ডা. সালাউদ্দিন বাবু’র। রাউজানে গভীর নলকূপে পড়া শিশুকে ৪ ঘণ্টা পর উদ্ধার রাউজানে নলকূপের গর্তে পড়ে ৩ বছরের শিশু নিখোঁজ সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রস্তুত: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কৃষকদল থেকে পাবনা-১ আসনে নির্বাচনী দায়িত্ব পেলেন কেএম হারুন বিএনপির সর্ববৃহৎ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জিয়া সাইবার ফোর্স এর ঢাকা জেলা কমিটি ঘোষণা ভয় দেখাবেন না, এক আঙুল দেখালে আমরা দুটি দেখিয়ে দেবো: গোলাম পরওয়ার

ক্ষমতায় গেলে কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে: তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
                                             
  •   Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৭k Time View  
  •                                      
                                   
                               
ক্ষমতায় গেলে কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে: তারেক রহমান
ক্ষমতায় গেলে কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে: তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল মূলত কৃষিনির্ভর এলাকা এবং এই অঞ্চলের অর্থনীতি কৃষকের ওপরই দাঁড়িয়ে আছে। কৃষক ভালো থাকলে দেশও ভালো থাকবে—এই বিশ্বাস থেকেই বিএনপি কৃষকদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। সে লক্ষ্যে সরকার গঠন করতে পারলে প্রত্যেক কৃষকের হাতে ‘কৃষি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে সার, বীজ, কীটনাশকসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ এবং ব্যাংক ঋণসহ সব ধরনের সরকারি সহায়তা সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে যাবে, যাতে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী সুবিধা নিতে না পারে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে অনুষ্ঠিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান আরও ঘোষণা দেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে, যাতে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা আর্থিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

উত্তরাঞ্চলের পানিসঙ্কট ও কৃষি উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করতে পারলে রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ পুরো উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান আমূল পরিবর্তন হবে। তিনি বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বরেন্দ্র অঞ্চল থেকে শুরু করে ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষকরা সেচ সুবিধা পাবে, ফসল উৎপাদন বাড়বে এবং কৃষিনির্ভর অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচিসহ পুরোনো ও সফল উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো নতুন করে চালু করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী অঞ্চলের বিখ্যাত আমচাষিদের সমস্যার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এত বড় আম উৎপাদনকারী এলাকা হওয়া সত্ত্বেও এখানে আধুনিক হিমাগারের অভাব রয়েছে। ফলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে এই অঞ্চলে আধুনিক হিমাগার স্থাপন করা হবে, যাতে আম দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় এবং কৃষকরা সঠিক দামে তাদের পণ্য বিক্রি করতে পারেন। পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক মিল-ফ্যাক্টরি ও শিল্পকারখানা স্থাপনে উদ্যোক্তাদের বিশেষ সহায়তা দেওয়া হবে, যাতে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

রাজশাহীর আইটি পার্কের বর্তমান অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, এখানে শিক্ষিত ও উচ্চশিক্ষিত বহু তরুণ-তরুণী থাকলেও কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় তারা বেকারত্বের শিকার হচ্ছে। আইটি পার্ক কার্যকরভাবে চালু করে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট স্থাপনের মাধ্যমে তরুণ ও নারীদের কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, সমাজ ও পরিবার টিকিয়ে রাখতে মায়েদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রত্যেক মায়ের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে। দল-মত নির্বিশেষে সবাই এই কার্ড পাবেন এবং এর মাধ্যমে সরকার থেকে ন্যূনতম আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা হবে, যাতে তারা সংসারের দৈনন্দিন চাপ সামলাতে পারেন এবং স্বাবলম্বী হতে পারেন।

চিকিৎসার জন্য প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষ বিদেশে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, এতে দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে রাজশাহীতে একটি আধুনিক ও বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হবে, ফলে দেশের মানুষ দেশেই মানসম্মত চিকিৎসা পাবে।

বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, গত ১৬–১৭ বছরে দেশের মানুষের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে সজাগ, সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গণতন্ত্র শক্তিশালী না হলে জনগণের কল্যাণে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি শান্তিতে বিশ্বাস করে এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে একটি গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে চায়। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সবাই মিলেমিশে বসবাস করবে, এটাই এ দেশের মানুষের চাওয়া। জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে নির্বাচনের পর ধাপে ধাপে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষক ও নারীদের সহায়তা এবং টেকসই উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জনসভায় রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুন সভাপতিত্ব করেন। এতে রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ১৩টি সংসদীয় আসনের বিএনপির প্রার্থী, দলীয় নেতাকর্মী ও বিপুলসংখ্যক সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 dailydhakabani
themesba-lates1749691102