
‘ছলে বলে কৌশলে যেকোনোভাবে জিততে হবে—এই পুরোনো রাজনীতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। “আমার ভোট আমি দেব, তোমারটাও আমি দেব”—এই দিনের অবসান হয়েছে।’
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।তিনি বলেন, চব্বিশের জেগে ওঠা যুব সমাজ এখন আর ঘুমিয়ে নেই। তারা নিজের ভোটের পাশাপাশি সবার ভোটের পাহারাদারি করবে। কোনো দুর্বৃত্ত কারও ভোটে হাত দিতে পারবে না ইনশাআল্লাহ। তিনি প্রশাসনের প্রতি স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা, সততা ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমার অধিকার মানে শুধু একটি দল বা গোষ্ঠীর অধিকার নয়—এই দেশের মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সকল ১৮ কোটি মানুষের অধিকার।’ দলীয় ও পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী দলীয় বিজয় নয়, বরং জনগণের বিজয় চায়।কিশোরগঞ্জের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রশংসা করে তিনি বলেন, এই জেলার মানুষ ধর্মপ্রাণ হলেও সকল ধর্মের মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলে। বাংলাদেশকে সব ধর্মের মানুষের জন্য ‘ফুলের বাগানের’ মতো গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
যুবসমাজ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত যুবক চাকরিবিহীন। তারা বেকার ভাতা নয়—ন্যায়বিচার ও মেধার সুবিচার চেয়ে রাস্তায় নেমেছিল। মামু-খালুর প্রভাবমুক্ত নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।হাওরাঞ্চল নিয়ে তিনি বলেন, দেশের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা হাওর, যা খাদ্য ও প্রোটিনের বড় যোগানদাতা। নদী ও হাওরের জীবন ফিরিয়ে এনে নদীকেন্দ্রিক উন্নয়ন সংস্কার শুরু করা হবে।
নারীদের নিরাপত্তা ও সম্মানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যে জাতি মাকে সম্মান করে আল্লাহ তায়ালা তাদের সম্মান বৃদ্ধি করে দেন।’ সম্প্রতি নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে অশালীন বার্তা প্রচারের ঘটনারও প্রতিবাদ জানান তিনি।তিনি আরও বলেন, ‘সুষ্ঠু ভোটে যেই নির্বাচিত হয়ে আসুক আমরা তাকে অভিনন্দন জানাব। কিন্তু চোরাই পথে আর কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না—ইনশাআল্লাহ।’নির্বাচনি জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার আমির অধ্যাপক রমজান আলী।বক্তব্য শেষে কিশোরগঞ্জ-২, কিশোরগঞ্জ-৩, কিশোরগঞ্জ-৪ ও কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের জামায়াত প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন জামায়াত আমির। একই সময় কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর হাতে রিকশা প্রতীক তুলে দেওয়া হয়।