
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের অন্তর্বর্তী সরকার। সংস্থাটির নতুন নাম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ (Special Intervention Force) বা সংক্ষেপে এসআইএফ।
মঙ্গলবার (আজ) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, র্যাবের নাম ও কাঠামো পুনর্বিবেচনার বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি আগে থেকেই কাজ করছিল। সেই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই সংস্থাটির নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আদেশ (অর্ডার) জারি করা হবে বলেও জানান তিনি।
র্যাবের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটি ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত প্যারেডে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে আত্মপ্রকাশ করে। এর কিছুদিন পরই, একই বছরের ১৪ এপ্রিল ঢাকার রমনা বটমূলে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা প্রদানের দায়িত্ব পায় র্যাব, যা ছিল তাদের প্রথম বড় ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম।
প্রাথমিক পর্যায়ে র্যাব মূলত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কাজে বেশি নিয়োজিত ছিল। তবে ২০০৪ সালের ২১ জুন থেকে সংস্থাটি পূর্ণাঙ্গভাবে অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু করে। এরপর থেকে সন্ত্রাস দমন, চরমপন্থা প্রতিরোধ, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে র্যাব।
নাম পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্তকে সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাঠামোগত সংস্কার ও আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে দেখছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। নতুন নাম ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’-এর মাধ্যমে সংস্থাটির দায়িত্ব, ভূমিকা ও কার্যপরিধিকে আরও স্পষ্ট ও আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।