নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে জানা তথ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের নিয়োগ দেওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান তার কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র চার দিন আগে এই পাসপোর্ট জমা দেওয়ার ঘটনাটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এর আগে অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গুঞ্জন চলছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুরুতে তাকে ডেনমার্কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ইরানে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। তবে ইরানের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল না থাকায় শেষ পর্যন্ত তিনি সেখানে যোগ দেননি। এই প্রেক্ষাপটেই তার কূটনৈতিক পাসপোর্টের ভবিষ্যৎ এবং প্রশাসনিক অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়।
কূটনৈতিক লাল পাসপোর্ট সাধারণত দায়িত্বকালীন সময়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিশেষ সুবিধা ও মর্যাদা প্রদান করে। দায়িত্ব শেষ হলে বা দায়িত্বে পরিবর্তন এলে নিয়ম অনুযায়ী এই পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টে ফিরে যেতে হয়। কিন্তু ড. নিয়াজ আহমদ খানের ক্ষেত্রে বিষয়টি সময়ের দিক থেকে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে, যখন নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সামনে, তখন হঠাৎ করে লাল পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করাকে অনেকেই স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বাইরে একটি তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপের পেছনে একাধিক সম্ভাব্য কারণ থাকতে পারে। একদিকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপট—সব মিলিয়ে তিনি ভবিষ্যৎ অবস্থান পরিষ্কার করতেই এই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, নতুন সরকার গঠনের পর প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক পরিবর্তনের আশঙ্কা থেকেই তিনি আগেভাগে নিজেকে সাধারণ নাগরিক অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে চেয়েছেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান একা নন—এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের অন্তত ১৫ জন উপদেষ্টা একইভাবে তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণ করেছেন। ফলে এটিকে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের পাশাপাশি একটি বৃহত্তর প্রশাসনিক প্রবণতা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
এর মধ্যেই ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, পদত্যাগের সিদ্ধান্ত কার্যকর করার আগেই তিনি কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেন। সবকিছু মিলিয়ে তার এই পদক্ষেপ—রাষ্ট্রদূত নিয়োগের আলোচনা, লাল পাসপোর্ট জমা দেওয়া এবং ভিসি পদ থেকে পদত্যাগ—একটি ধারাবাহিক ঘটনার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা আগামী দিনে আরও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশ্লেষণের জন্ম দিতে পারে।
উপদেষ্টা: এ্যাড. এনামুল হক এনাম সম্পাদক : মোঃ শামীম আহমেদ অফিসঃ ১৫০ নাহার ম্যানসন (৫ম তলা) মতিঝিল বানিজ্যিক এলাকা,ঢাকা -১০০০। খন্দকার এন্টারপ্রাইজ লি. এর পক্ষে কেএম সবুজ কর্তৃক প্রকাশিত। মোবাইল নং : ০১৭১৫-৬২৭৮৯৪ , ০১৭৮৪-৮৩৮৬৮০ ই-মেইল: news@dhakabani.com
প্রকাশিত সংবাদপত্রের অংশ