বিএনপিকে নির্বাচনে বিজয়ী করায় দেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, “এই বিজয় কোনো একক দল বা ব্যক্তির নয়—এ বিজয় গণতন্ত্রের, এ বিজয় বাংলাদেশের, এ বিজয় দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের। আজ থেকে আমরা স্বাধীন।”শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল-এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমকর্মী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি দীর্ঘ বক্তব্যে নির্বাচনের তাৎপর্য ও ভবিষ্যৎ করণীয় তুলে ধরেন।তারেক রহমান বলেন, দেশের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রতিবন্ধকতা, ভয়ভীতি ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা থেকে সরে আসেনি।
“সব বাধা অতিক্রম করে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এর মধ্য দিয়ে তারা প্রমাণ করেছেন—বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে এবং নিজেদের অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হতে জানে,” বলেন তিনি। এ জন্য তিনি দেশের প্রতিটি নাগরিককে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান।তিনি বলেন, দেশ একটি কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে নতুন যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে। তার ভাষায়, ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, অকার্যকর সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান এবং দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বাস্তবতায় নতুন সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশে পুনরায় জনগণের সরাসরি ভোটে একটি জবাবদিহিমূলক সংসদ ও সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ভবিষ্যতে যেন কোনো অপশক্তি আবারও দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদসহ মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করার জন্য সব রাজনৈতিক দলকে তিনি অভিনন্দন জানান এবং বলেন, ভিন্নমত ও ভিন্ন পথ থাকা সত্ত্বেও নির্বাচনে অংশ নেওয়াই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।
তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্রের বাতিঘর হিসেবে কাজ করে। সরকার ও বিরোধীদল নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে দেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে। শক্তিশালী সংসদ, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ও কার্যকর প্রশাসনের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।দেশ গঠনে সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, “পথ ও মত ভিন্ন থাকতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থ সবার ঊর্ধ্বে। জাতীয় ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। বিভাজন আমাদের দুর্বল করে।” তিনি বলেন, ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
উপদেষ্টা: এ্যাড. এনামুল হক এনাম সম্পাদক : মোঃ শামীম আহমেদ অফিসঃ ১৫০ নাহার ম্যানসন (৫ম তলা) মতিঝিল বানিজ্যিক এলাকা,ঢাকা -১০০০। খন্দকার এন্টারপ্রাইজ লি. এর পক্ষে কেএম সবুজ কর্তৃক প্রকাশিত। মোবাইল নং : ০১৭১৫-৬২৭৮৯৪ , ০১৭৮৪-৮৩৮৬৮০ ই-মেইল: news@dhakabani.com
প্রকাশিত সংবাদপত্রের অংশ