
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে আর কোনোভাবেই মব কালচার বরদাশত করা হবে না। দাবি-দাওয়া আদায়ের নামে সড়ক ও মহাসড়ক অবরোধ, ভাঙচুর বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার—এ বিষয়ে কোনো আপস হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী। শান্তিপূর্ণ মিছিল-সমাবেশ করা যাবে, মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার থাকবে। তবে সেই অধিকার ব্যবহার করে কেউ যদি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করে বা সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, অনেকের ধারণা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মানেই কেবল পুলিশ। বাস্তবে এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা কাজ করছে, যাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। পুলিশকে জনগণের প্রকৃত বন্ধু হিসেবে গড়ে তোলার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন এবং বলেন, অতীতে পুলিশের যে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে, তা পেশাদারিত্ব, মানবিক আচরণ ও জবাবদিহির মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করতে হবে।
সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পুরোপুরি দুর্নীতিমুক্ত করতে সর্বস্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো ধরনের অবৈধ তদবির, ক্ষমতার অপব্যবহার বা অনৈতিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা সহ্য করা হবে না। নিয়মের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকেই নিতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্য যদি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হন, সেক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, অপরাধ যেই করুক না কেন—সে সাধারণ নাগরিক হোক বা বাহিনীর সদস্য—আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।
আইজিপিসহ বাহিনীর কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না—এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তারা এরই মধ্যে সাক্ষাৎ করে গেছেন এবং সম্ভবত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ব্যস্ত থাকায় সভায় উপস্থিত থাকতে পারেননি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে সবার সমন্বিত উদ্যোগে একটি কার্যকর, জনবান্ধব ও দায়িত্বশীল স্বরাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।