শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
অতীতের মতো দলকানা কর্মকর্তা দেখতে চাই না: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে কমলনগর উপজেলা বিএনপির শ্রদ্ধা নিবেদন কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫ ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক কিশোরগঞ্জে গভীর শ্রদ্ধায় পালিত হচ্ছে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস তেজগাঁও কার্যালয়ে অফিস শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাভারে ভাষা শহীদদের প্রতি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা. সালাউদ্দিন বাবুর শ্রদ্ধা। বিশ্বের সব ভাষাভাষী মানুষ ও জাতিগোষ্ঠীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী বাজার সিন্ডিকেট দমনে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান মশুরীখোলা পীরের বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ভারত: জয়সওয়াল

অতীতের মতো দলকানা কর্মকর্তা দেখতে চাই না: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
                                             
  •   Update Time : শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১k Time View  
  •                                      
                                   
                               
অতীতের মতো দলকানা কর্মকর্তা দেখতে চাই না: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী
অতীতের মতো দলকানা কর্মকর্তা দেখতে চাই না: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

সরকার অতীতের মতো ‘দলকানা’ বা রাজনৈতিক পরিচয়নির্ভর কর্মকর্তাদের আর দেখতে চায় না বলে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একমাত্র পরিচয় হতে হবে তাঁদের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও কর্মদক্ষতা। রাজনৈতিক আনুগত্য বা বিশেষ কোনো পক্ষের প্রতি ঝোঁকের ভিত্তিতে কাজ করার সুযোগ আর থাকবে না। এখানে কারও জন্য আলাদা কোনো আনুকূল্য নেই; বরং পারফরম্যান্সই হবে কর্মকর্তাদের মূল্যায়নের একমাত্র মানদণ্ড।শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) যশোর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জেলা পর্যায়ের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহির মধ্যে থেকে কাজ করতে হবে। সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করাই সবার প্রধান দায়িত্ব। তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো কর্মকর্তা যদি অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করেন বা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেন, তাহলে সেটি শুধু প্রশাসনের জন্য নয়, জনগণের জন্যও বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করবে।বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “আপনারা যশোরের স্বার্থে আমার কাছ থেকে কাজ আদায় করে নেবেন। আমি আপনাদের হয়ে মন্ত্রণালয়ে দৌড়াবো।” তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে জনগণের সঙ্গে সরাসরি কোনো সংযোগ ছাড়াই অনেক কাজ করা হয়েছে, যার ফলে বাস্তবে সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধান হয়নি। এই অবস্থার পরিবর্তন আনতে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

যশোর জেলার উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যশোর শিশু হাসপাতালের এনআইসিইউ ও করোনারি কেয়ার ইউনিটকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা, যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল স্থাপন, বিসিক ঝুমঝুমপুর এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের একটি সাব-স্টেশন নির্মাণ এবং একটি বিশেষায়িত হিমাগার প্রতিষ্ঠার বিষয় সরকার গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জেলার স্বাস্থ্যসেবা ও শিল্পখাতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।এছাড়া ভবদহসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং খাল খননের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়েও তিনি কথা বলেন। এসব কাজ বাস্তবায়নে প্রশাসনকে সক্রিয় ও সাহসী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

মুক্তেশ্বরী নদীর দখল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নদীর জায়গা অবৈধভাবে দখল করে প্লট আকারে বিক্রি করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে যারা ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাদের অনেকেই এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিল। তবে বর্তমান বাস্তবতায় তাঁর রাজনৈতিক দলের কোনো ঊর্ধ্বতন ব্যক্তি যদি এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন, তাহলে প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। “অতীতে জনগণের সম্পদ গ্রাস হয়েছে, ভবিষ্যতে আর হবে না”—এই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।রমজান মাসের প্রথম দিনে পৌর এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনির্বাচিত সরকার এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে, কিন্তু নির্বাচিত সরকারের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল।

ফুটপাত দখলমুক্ত করা, যানজট নিরসনসহ নগর ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন অবশ্যই প্রয়োজন, তবে তা করতে হবে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা বা পুনর্বাসনের সুযোগ রাখার ওপর তিনি জোর দেন।বক্তব্যের শেষাংশে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংমুক্ত একটি নিরাপদ যশোর গড়ার অঙ্গীকার পুনরায় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তাহলেই একটি উন্নত, মানবিক ও বাসযোগ্য যশোর গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 dailydhakabani
themesba-lates1749691102