বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
                                             
  •   Update Time : বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৯k Time View  
  •                                      
                                   
                               
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টায় রাজধানীর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে এ ফল ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে ফল ঘোষণা করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর সারা দেশে মোট ৪৫ হাজার ২০০ জন শিক্ষার্থীকে জুনিয়র বৃত্তি প্রদান করা হবে। এর মধ্যে মেধার ভিত্তিতে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি এবং অপেক্ষাকৃত কম নম্বরপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের জন্য সাধারণ বৃত্তি—এই দুই ক্যাটাগরিতে কোটা নির্ধারণ করে বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। নীতিমালা অনুযায়ী বোর্ডভিত্তিক আনুপাতিক হার এবং উপজেলা পর্যায়ে নির্ধারিত কোটার ভিত্তিতে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

ফল প্রকাশের পরপরই শিক্ষার্থীরা অনলাইনে সহজেই তাদের ফল জানতে পারছে। এজন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘Scholarship Result’ অপশনে ক্লিক করে রোল নম্বর ও সাল ২০২৬ লিখলেই ফলাফল জানা যাবে। পাশাপাশি যাদের ইন্টারনেট সুবিধা নেই, তারা মোবাইল ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে বোর্ডের নাম, রোল নম্বর ও সাল লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠালেও ফিরতি এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে পারবে।

ফল ঘোষণার অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এ ছাড়া আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, ঢাকা-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবির এবং আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক ও একই বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর সারা দেশে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ শিক্ষার্থী জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। দেশের ৬১১টি কেন্দ্রে গত ২৮ ডিসেম্বর একযোগে পরীক্ষা শুরু হয়। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দিন বাংলা, পরদিন ২৯ ডিসেম্বর ইংরেজি এবং ৩০ ডিসেম্বর গণিত বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হয়।তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-এর মৃত্যুর কারণে ৩১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে ওই স্থগিত পরীক্ষা ৬ জানুয়ারি পুনরায় অনুষ্ঠিত হয়।

ঢাকা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ বোর্ডের অধীনে মোট ৮৭ হাজার ৯৪৯ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত ছিল। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৮০ হাজার ২১৮ জন, যা নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের প্রায় ৯১ দশমিক ২ শতাংশ। নিবন্ধিতদের মধ্যে ৭ হাজার ৭৩১ জন (প্রায় ৮ দশমিক ৮ শতাংশ) পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।এ ছাড়া পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী সব বিষয়ে পরীক্ষা দেয়নি। তথ্য অনুযায়ী, ১০ হাজার ৩০ জন শিক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে অনুপস্থিত ছিল। সব বিষয়ে পরীক্ষা দিয়েছে ৭৭ হাজার ৯১৯ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৮৮ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ১১ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী সব বিষয়ে অংশ নিতে পারেনি।

বোর্ডভিত্তিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যার দিক থেকে ঢাকার পর সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেওয়ার সুযোগ পায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহী—এ বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ৪৩ হাজার ৬৬০ জন (প্রায় ১২ দশমিক ৬০ শতাংশ)। এরপর রয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লা-এ ৪০ হাজার ২১৯ জন (প্রায় ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ) এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, দিনাজপুর-এ ৪০ হাজার ২৩১ জন (প্রায় ১১ দশমিক ৬১ শতাংশ) পরীক্ষার্থী। এই দুই বোর্ড মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থীর ২৩ শতাংশের বেশি।

এ ছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোর-এ পরীক্ষার্থী ছিল ৩৮ হাজার ৬৭৬ জন (প্রায় ১১ দশমিক ১৬ শতাংশ) এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রাম-এ ২৯ হাজার ৫ জন (প্রায় ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ)।নতুন ও অপেক্ষাকৃত ছোট বোর্ডগুলোর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহ-এ ২৩ হাজার ২০০ জন (প্রায় ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ) এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, সিলেট-এ ২৩ হাজার ২২ জন (প্রায় ৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ) শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এই দুই বোর্ড মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থীর ১৩ শতাংশের বেশি।

সবচেয়ে কম পরীক্ষার্থী ছিল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশাল-এ। এ বোর্ডে মোট ২০ হাজার ৬২৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়, যা মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জুনিয়র বৃত্তি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহ জোগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সময়মতো ফল প্রকাশ ও অনলাইন–এসএমএসের মাধ্যমে সহজে ফল জানার সুযোগ থাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তিও অনেক কমেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 dailydhakabani
themesba-lates1749691102