বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:৪৭ অপরাহ্ন

স্বর্ণের দাম আবারও বাড়ল

নিজস্ব প্রতিবেদক
                                             
  •   Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২k Time View  
  •                                      
                                   
                               

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। দুর্বল মার্কিন ডলার এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ায় বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা, পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনাকে ঘিরে উদ্বেগ বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে এসে স্বর্ণের মতো নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকতে উৎসাহিত করছে।

বার্তাসংস্থা Reuters–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রিনিচ মান সময় সকাল ০৬টা ৩৯ মিনিট পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ১৯৫ দশমিক ৯৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার স্বর্ণের দাম তিন সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়, যা বাজারে নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। তবে একই সময়ে এপ্রিল ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার তুলনামূলকভাবে কিছুটা দুর্বল ছিল। এদিন ফিউচার বাজারে দাম ০ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ২১৩ দশমিক ৫০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।

ওসিবিসির (OCBC) কৌশলবিদ ক্রিস্টোফার ওয়ং বলেন, নতুন শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উদ্বেগ এবং দুর্বল ডলারের কারণে বাজারে স্বর্ণের দামের পুনর্মূল্যায়ন চলছে। তাঁর মতে, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির অস্থিরতা, ডলারের ওঠানামা, শুল্ক সংক্রান্ত আকস্মিক ঘোষণা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নীতিগত অনিশ্চয়তা—এই সবকিছু মিলিয়ে আপাতত বাজারে দুইমুখী প্রবণতা থাকতে পারে। অর্থাৎ একদিকে নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা দাম বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে সুদের হার ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে অনিশ্চয়তা স্বর্ণের দামে স্বল্পমেয়াদি চাপ তৈরি করছে।

এদিকে চিপ নির্মাতা জায়ান্ট NVIDIA প্রত্যাশার চেয়ে ভালো আয় প্রকাশ করায় শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কিছুটা বেড়েছে। তবে তা সত্ত্বেও বাজার এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কারণ আমদানি পণ্যের ওপর নতুন মার্কিন শুল্ক আরোপের বিস্তারিত ঘোষণা এখনো আসেনি। এই অনিশ্চয়তাই বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশকে ঝুঁকিমুক্ত সম্পদের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করছে। অন্যদিকে দুর্বল ডলার অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য ডলার-নির্ধারিত স্বর্ণকে তুলনামূলকভাবে সস্তা করে তুলেছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বর্ণের চাহিদা বাড়াচ্ছে।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি Jamieson Greer জানিয়েছেন, নতুন আরোপিত ১০ শতাংশ শুল্কের পরিবর্তে কিছু দেশের ক্ষেত্রে শুল্কহার ১৫ শতাংশ বা তারও বেশি হতে পারে। যদিও এখনো নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম প্রকাশ করা হয়নি। এই বক্তব্যের পর থেকেই বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে এবং তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্বর্ণবাজারে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাজারের ধারণা অনুযায়ী চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক Federal Reserve তিন দফায় ২৫ বেসিস পয়েন্ট করে সুদহার কমাতে পারে। বিনিয়োগকারীরা এদিন প্রকাশিত হতে যাওয়া সাপ্তাহিক বেকারত্ব ভাতার আবেদনসংক্রান্ত তথ্যের দিকে তাকিয়ে আছেন, কারণ এসব তথ্য থেকে ফেডের ভবিষ্যৎ নীতিপথ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে। যদি শ্রমবাজার দুর্বলতার লক্ষণ দেখায়, তবে সুদহার কমানোর সম্ভাবনা আরও জোরালো হবে, যা স্বর্ণের দামের জন্য ইতিবাচক।

ভূরাজনৈতিক দিক থেকেও পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিচ্ছে। জেনেভায় বৃহস্পতিবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিরোধ নিরসন এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা এড়াতে এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আলোচনার ফল কী হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় বিনিয়োগকারীরা আগেভাগেই নিরাপদ সম্পদে অবস্থান নিচ্ছেন।

অন্যদিকে Deutsche Bank জানিয়েছে, সোনার পাশাপাশি রুপা ও অন্যান্য ‘হোয়াইট মেটাল’-এর দাম বৃদ্ধির গতি আবারও জোরালো হয়েছে। ব্যাংকটি পূর্বাভাস দিয়েছে, চলতি বছরের শেষে প্রতি আউন্স রুপার দাম ১০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। এই পূর্বাভাস নির্ধারণ করা হয়েছে গোল্ড-সিলভার অনুপাত ৬০-এর ভিত্তিতে, যা বাজারে রুপার সম্ভাবনাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলছে।

এদিন স্পট সিলভারের দাম ০ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৮৯ দশমিক ৪৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের সেশনে রুপার দাম তিন সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। একই সঙ্গে প্লাটিনামের দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৩০৫ দশমিক ২০ ডলারে পৌঁছেছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম সামান্য কমে ০ দশমিক ১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৭৯৩ দশমিক ৮৪ ডলারে লেনদেন হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আগের সেশনে প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়াম—দুটিই তিন সপ্তাহের সর্বোচ্চ স্তরে অবস্থান করেছিল।

সব মিলিয়ে দুর্বল ডলার, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত প্রত্যাশা—এই সবকিছু মিলেই আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণসহ মূল্যবান ধাতুর দামে ঊর্ধ্বমুখী চাপ সৃষ্টি করছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 dailydhakabani
themesba-lates1749691102