শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:১৩ অপরাহ্ন

ভাষাসৈনিক মোস্তফা এম.এ মতিনের ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
                                             
  •   Update Time : শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৫k Time View  
  •                                      
                                   
                               
ভাষাসৈনিক মোস্তফা এম.এ মতিনের ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
ভাষাসৈনিক মোস্তফা এম.এ মতিনের ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

১৯৩৪ সালের ১ আগস্ট ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার সাতেঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে যুক্ত হন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর রাজনীতির সঙ্গে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল তার রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পরবর্তী সময়ে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধেও তিনি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রবাসী সরকারের অধীনে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে অর্থনৈতিক সহায়তা নিশ্চিত করায় তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।

শিক্ষাজীবনে তিনি গফরগাঁও ইসলামিয়া সরকারি হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ঢাকা কলেজ থেকে আইএ, জগন্নাথ কলেজ থেকে বিএ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৩ সালে ঢাকা জেলা বারে আইন পেশায় যুক্ত হন। স্বাধীনতার পর ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতিতে যোগ দিয়ে আমৃত্যু আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। এর আগে মতিঝিল টি অ্যান্ড টি হাই স্কুলে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।রাজনৈতিক জীবনে তিনি ১৯৭০ সালে প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য এবং ১৯৭৩ সালে বিলুপ্ত ময়মনসিংহ-১৮ (বর্তমান ময়মনসিংহ-১১) আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার সংসদীয় মেয়াদ ছিল ৭ এপ্রিল ১৯৭৩ থেকে ৬ নভেম্বর ১৯৭৫ পর্যন্ত। ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয়ী হতে পারেননি।

ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি হিসেবে ২০০১ ও ২০০২ সালে টানা দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ভাষা আন্দোলনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২০০০ সালে তাকে ভাষাসৈনিক হিসেবে সংবর্ধনা ও স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবে ২০২২ সালে তাকে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করা হয়।২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি তিনি নিজ জন্মভূমি ভালুকায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর পরও তার কর্ম ও আদর্শ আজও প্রেরণা জোগায়। নতুন প্রজন্মের মাঝে ভাষা আন্দোলনের চেতনা ছড়িয়ে দিতে এবং তার স্মৃতিকে অম্লান রাখতে পৌর পাঠাগারটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 dailydhakabani
themesba-lates1749691102