বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ০৫:২৭ অপরাহ্ন

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র হবে সংসদ: স্পিকার

স্টাফ রিপোর্টার
                                             
  •   Update Time : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬
  • ৯k Time View  
  •                                      
                                   
                               
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র হবে সংসদ: স্পিকার
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র হবে সংসদ: স্পিকার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, জাতীয় সংসদ হবে সব রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র। তিনি শপথবদ্ধ হয়েছেন যে, জাতীয় স্বার্থ সবসময় দলীয় স্বার্থের উপরে থাকবে এবং সংসদের মূলমন্ত্র হবে “সবার আগে বাংলাদেশ।” বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। সূচনা বক্তব্যে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁদের আত্মত্যাগের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

স্পিকার বলেন, ১৯৭১ সালে (সঠিকভাবে ১৯৯১ সালে) খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সরকারি ও বিরোধী দল একত্রিত হয়ে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেছিল, কিন্তু বিভিন্ন বাধা ও প্রতিবন্ধকতার কারণে গণতন্ত্র পরিপূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তিনি সংসদ ভবনের ইতিহাস তুলে ধরেন এবং বলেন, বহু বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে এই সংসদ গণতন্ত্রের পতাকাকে অটুট রাখার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৭৫ সালে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু হওয়ার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে স্বৈরশাসকদের আগমন ঘটলেও বাংলাদেশের লড়াকু জনগণ প্রতিটি শাসকের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রেখেছে।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র কখনও সহজ পথে এগোয়নি। মাঝে মাঝে স্বৈরশাসকের পদধ্বনি শোনা গেছে, জনগণ নানা কষ্টের মুখোমুখি হয়েছে। তবে ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ছাত্রজনতা, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষের এক গণঅভ্যুত্থান ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটিয়েছে। তিনি শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিমসহ সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তাঁর দশম জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতায় সবচেয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ছিল এবং জনগণ অধীর আগ্রহে সংসদের কার্যক্রম দেখার জন্য অপেক্ষা করছেন।

তিনি জনগণের প্রতি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই জাতির স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন। বিরোধী দল যাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য তিনি সর্বদা সচেষ্ট থাকবেন। নিরপেক্ষতার কারণে তিনি ইতোমধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে স্পিকার পদে একমাত্র মনোনয়ন পাওয়া হাফিজ উদ্দিন আহমদকে জাতীয় সংসদের হুইপ নূরুল ইসলাম মনি প্রস্তাব করেন এবং হুইপ রাকিবুল ইসলাম বকুল সমর্থন দেন। সভাপতি খন্দকার মোশাররফ হোসেন সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে তাদের সমর্থন নিয়ে ভোট গ্রহণ করেন, যা একহাতেই পাস হয়। হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভোলা-৩ আসন থেকে সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং ত্রয়োদশ নির্বাচনে পুনরায় নির্বাচিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান।

ডেপুটি স্পিকার পদে নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য কায়সার কামাল প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হন। তাঁর মনোনয়ন প্রস্তাব করেন হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এবং সমর্থন দেন হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান। পরে সভাপতি খন্দকার মোশাররফ হোসেন কণ্ঠভোটে নির্বাচন সম্পন্ন করেন। নতুন সরকারের মন্ত্রীসভায় কায়সার কামাল ভূমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর সংসদে কিছুক্ষণের বিরতি ঘোষণা করা হয়। বিরতির সময়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের শপথ বাক্য পাঠ করান। বিরতি শেষে অধিবেশন পুনরায় শুরু হয়, যদিও মাইকের সমস্যার কারণে কিছুক্ষণ পর স্পিকার বিশ মিনিটের জন্য আবারও বিরতি দেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদের কার্যক্রমের মধ্যে স্বচ্ছতা, গণতন্ত্রের শক্তি এবং সকল রাজনৈতিক পক্ষের সমন্বয় নিশ্চিত করতে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার কথা জানান।

এভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ শুরু হয়েছে, যেখানে সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও বিরোধী দলের সক্রিয় অংশগ্রহণ মিলিত হয়ে দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্রের সুরক্ষা এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বাগ্রে রাখার লক্ষ্য সামনে নিয়ে কাজ করবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 dailydhakabani
themesba-lates1749691102