নাগরিক হিসেবে আমরা যদি প্রত্যেকে নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করি, তবে একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব— এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, সেবায়েত ও বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষদের সম্মানি কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ এখানে এমন অনেক সম্মানিত ব্যক্তি উপস্থিত আছেন, যাদের সমাজের মানুষ নিঃস্বার্থভাবে সম্মান করে। কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়াই মানুষ তাদের কাছে যায় এবং জীবনের নানা সংকটময় মুহূর্তে তাদের কাছ থেকে সঠিক দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ আশা করে। ধর্মীয় নেতারা সমাজে নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও মানবিকতার শিক্ষা ছড়িয়ে দেন। তাই সমাজ গঠনে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন যারা অর্থনৈতিকভাবে কিছুটা পিছিয়ে আছেন। তাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং সম্মানজনকভাবে জীবনযাপন নিশ্চিত করার মাধ্যমে সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য কমিয়ে আনা সম্ভব। জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই সরকার এই সম্মানি কার্যক্রম চালু করেছে। এর মাধ্যমে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যুক্ত মানুষেরা কিছুটা আর্থিক সহায়তা পাবেন এবং তারা আরও মনোযোগ দিয়ে সমাজ ও মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারবেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই কর্মসূচির আওতায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্মানি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি মসজিদের জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ইমাম পাবেন ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন পাবেন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেম পাবেন ২ হাজার টাকা করে।
অন্যদিকে প্রতিটি মন্দিরের জন্য ৮ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই অর্থ থেকে পুরোহিত পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং সেবায়েত পাবেন ৩ হাজার টাকা। একইভাবে প্রতিটি বৌদ্ধ বিহারের জন্যও ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে বিহার অধ্যক্ষ পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং উপাধ্যক্ষ পাবেন ৩ হাজার টাকা করে। এছাড়া প্রতিটি খ্রিস্টান চার্চের জন্য ৮ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকবে। এর মধ্যে পালক বা যাজক পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং সহকারী পালক বা যাজক পাবেন ৩ হাজার টাকা করে।
প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জাবিউল্লাহ এ বিষয়ে জানান, শুধু মাসিক সম্মানি নয়, ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষেও সংশ্লিষ্টদের জন্য বিশেষ বোনাস দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মসজিদে কর্মরত ব্যক্তিরা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সময় এক হাজার টাকা করে বছরে দুইবার মোট দুই হাজার টাকা বোনাস পাবেন। অন্যদিকে দুর্গাপূজা, বৌদ্ধপূর্ণিমা কিংবা বড়দিন উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্তদের জন্য দুই হাজার টাকা করে বোনাস প্রদান করা হবে।
তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যেসব মসজিদ বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে সরকারি কিংবা দেশি-বিদেশি সংস্থার অনুদান বা আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকে, সেগুলো এই সম্মানি কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সহায়তা প্রদান করা।তিনি আরও জানান, চলতি অর্থবছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত এই সম্মানি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রায় ২৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। তবে পূর্ণাঙ্গভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে প্রতি অর্থবছরে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। সরকার ধারাবাহিকভাবে চার বছর এই সম্মানি প্রদান কার্যক্রম চালু রাখার পরিকল্পনা করেছে।
এই সম্মানি সরাসরি ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি ধর্মীয় উপাসনালয়ে এই কর্মসূচি চালু করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।সরকারের এই উদ্যোগ ধর্মীয় নেতাদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করবে এবং একই সঙ্গে সমাজে মানবিকতা, সহনশীলতা ও নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা।
উপদেষ্টা: এ্যাড. এনামুল হক এনাম সম্পাদক: মোঃ শামীম আহমেদ অফিসঃ ১৫০ নাহার ম্যানসন (৫ম তলা) মতিঝিল বানিজ্যিক এলাকা,ঢাকা-১০০০।খন্দকার এন্টারপ্রাইজ লি. এর পক্ষে কেএম সবুজ কর্তৃক প্রকাশিত।মোবাইল নং: ০১৭১৫-৬২৭৮৯৪, ০১৭৮৪-৮৩৮৬৮০ (বার্তাকক্ষ) ০১৯৯৯-৬৫২৩০৩ ই-মেইল: dailydhakabani@gmail.com
প্রকাশিত সংবাদপত্রের অংশ