
লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার ৫ নং চর ফলকন ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী হাজিরহাট বাজারের মাছ হাটা সংলগ্ন এলাকায় সরকারি জমি নিয়ে এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এখানে উপজেলা ভূমি অফিস এবং উপজেলা কৃষি অফিসের মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে একটি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন পথ বের করার চেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ‘রহস্যজনক’ ভূমিকা নিয়ে স্থানীয় মহলে ব্যাপক সমালোচনা ও গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাজিরহাট বাজারের মাছ হাটা সংলগ্ন একপাশে উপজেলা ভূমি অফিস এবং অন্যপাশে উপজেলা কৃষি অফিস অবস্থিত। গুরুত্বপূর্ণ এই দুই সরকারি দপ্তরের মাঝখানের জায়গাটি মূলত সরকারি খাস জমি বা অফিসের সীমানাভুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও, সেখানে একটি পক্ষ ব্যক্তিগত চলাচলের পথ দাবি করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি জমির ওপর দিয়ে এই পথ বের করার পেছনে ভূমি ও কৃষি অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশ থাকতে পারে।
বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, সরকারি দুটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মাঝখানে কোনো ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জায়গা বা পথ থাকার কথা নয়। যদি এটি ব্যক্তিগত জমি হয়, তবে সরকারি নকশায় তার প্রমাণ থাকতে হবে। কিন্তু কোনো অদৃশ্য শক্তির বলে দুই সরকারি অফিসের মাঝখান দিয়ে ব্যক্তিমালিকানাধীন বাড়ির রাস্তা বের করার পাঁয়তারা চলছে, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, “সরকারি অফিসের নিরাপত্তা এবং সীমানা প্রাচীর থাকার কথা। কিন্তু এখানে দেখছি উল্টো চিত্র। কর্মকর্তাদের উদাসীনতা বা কোনো বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে সরকারি জায়গাকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।”
এই বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা ভূমি অফিসের দায়িত্বশীল কেউ সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মচারী জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, কৃষি অফিসের সীমানার ভেতর দিয়ে ব্যক্তিগত চলাচলের রাস্তা করার বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তার পক্ষ থেকেও কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।হাজিরহাটের সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করেন, সরকারি সম্পদ রক্ষা করা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব। এভাবে যদি সরকারি দপ্তরের মাঝখান দিয়ে ব্যক্তিগত পথ বা স্থাপনা তৈরি হয়, তবে ভবিষ্যতে সরকারি ভূমি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। এই বিষয়ে জেলা প্রশাসক এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।