
মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে সরকার। এ উদ্দেশ্যে শহর ও গ্রামে মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা এবং রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।সোমবার (৬ এপ্রিল) ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলার অঙ্গীকার নিয়ে ৭ এপ্রিল বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬’ উদ্যাপিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য—‘স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ’।
তিনি উল্লেখ করেন, মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশ—এই তিনটি উপাদান একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। একটির সুস্থতা অন্যটির ওপর নির্ভরশীল। তাই সকল প্রাণের সুরক্ষা এখন সময়ের দাবি। ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণা এ বিষয়টিকেই তুলে ধরে, যেখানে মানুষের পাশাপাশি পরিবেশ ও প্রাণিকুলের সুস্থতাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে চিকিৎসাবিজ্ঞান, কৃষিবিজ্ঞান, প্রাণিবিজ্ঞান ও পরিবেশবিজ্ঞানকে সমন্বিত করে গবেষণা এবং টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানের দ্রুত অগ্রগতি স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। বিশেষ করে দেশের প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই, মানসম্পন্ন ও বৈষম্যহীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত ও নির্ভুল রোগ নির্ণয় এবং কার্যকর চিকিৎসা প্রদানে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর), অগমেন্টেড রিয়েলিটি (এআর), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মেশিন লার্নিং (এমএল)-এর ব্যবহার বাড়াতে হবে।তিনি বলেন, সরকার ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম’—এই নীতিতে বিশ্বাস করে। ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি কল্যাণকামী রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কারণ, স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার।
তারেক রহমান আরও জানান, মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে ধাপে ধাপে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার প্রায় ৮০ শতাংশই নারী। পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিকের জন্য ই-হেলথ কার্ড চালু, জটিল রোগের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) চালু, স্বাস্থ্য খাতে সংস্কার, চিকিৎসা ব্যয় সহনীয় রাখা, স্বাস্থ্যবিমা চালু ও বিস্তার, চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণা জোরদার এবং সেবাদাতা ও সেবাগ্রহীতার জন্য ন্যায়সংগত আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।তিনি আরও বলেন, এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।বাণীর শেষে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সততা, নিষ্ঠা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি সুস্থ ও সবল জাতি গড়ে তোলা সম্ভব হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে তিনি সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে দিবসটির সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।