রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ জিয়াউর রহমান হলের একটি কক্ষে ‘মেয়ে থাকার সন্দেহে’ ভোর রাতে তল্লাশি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। কক্ষে প্রবেশ করে হল সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ইসরাফিল হোসাইনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের লাঞ্ছনা করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। হলের শিক্ষার্থী ও পাহারাদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভোর ৪টার দিকে হল সংসদের এজিএস ইসরাফিল হোসাইনকে কয়েকজন পাহারাদারকে জানান যে একটি কক্ষে নারী প্রবেশ করেছেন। পরে ওই পাহারাদারকে সঙ্গে নিয়ে ওই কক্ষে গিয়ে তল্লাশি চালান।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আলিম মৃধা বলেন, ‘রাতে ইসরাফিলসহ কয়েকজন এসে জোরে দরজা ধাক্কাতে থাকে। আমরা ঘুমিয়ে থাকায় দরজা খুলতে দেরি হয়। দরজা খোলার পর তারা জোর করে রুমে ঢুকে পড়ে এবং বলে এখানে মেয়ে আছে। পরে কাউকে না পেয়ে তারা চলে যায়।’একই কক্ষের আরেক শিক্ষার্থী সন্দীপ কুমার শীল বলেন, ‘দরজা খোলার পর দেখি তারা মোবাইলে ভিডিও চালু করে রেখেছে। বারবার বলছিল এই রুমে মেয়ে আছে, সার্চ করবে। পরে জোর করে রুমে ঢোকে।’তিনি অভিযোগ করেন, ‘কিছু না পাওয়ার পরও ইসরাফিল অন্যদের কাছে বলেছে আমরা মেয়ে এনেছিলাম এবং তাকে আগেই বের করে দিয়েছি। এতে আমাদের সম্মানহানি হয়েছে। হল প্রশাসনের বাইরে একজন ছাত্র কীভাবে তল্লাশি চালায়, সেটাও প্রশ্ন। হল প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে আমরা এব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে যাব।’
অভিযুক্ত এজিএস ইসরাফিল হোসাইন বলেন, আমরা একটি জায়গা থেকে হলে মেয়ে নিয়ে আসার তথ্য পাই। পরে হল সংসদের ভিপি এবং জিএস এর সাথে পরামর্শ করে সত্য-মিথ্যা যাচাই করার জন্য ওই রুমে যাই। তবে সেখানে এরকম কিছুই পাইনি।’হল সংসদের ভিপি ও হল শাখা শিবিরের সভাপতি মোজাম্মেল হক বলেন, "গতকাল ফজরের আগে একজন হলে মেয়ে নিয়ে আসার বিষয়ে জানায়। তখন আমি জিএস ও এজিসকে জানাই এবং এরকম কিছু হলে গোপনে মিটমাট করে ফেলতে বলি। এটা যাতে আলোচনার কোনো টপিক না হয় সেটাই চেয়েছিলাম।’তবে এবিষয়ে সম্পূর্ণ অজানা বলে জানান জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবার রহমান।
তিনি বলেন, ‘হলে যে তল্লাশি হয়েছে সেটা পুরোটাই আমার অজানা। একজন ছাত্র আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানায়। ছাত্ররা হয়তো কার কতটুকু এখতিয়ার সেটা নাও জানতে পারে। তবে হলে একটা প্রশাসন আছে। হলে কোনো কিছু ঘটলে সেটা হল প্রশাসনের মাধ্যমেই করতে হবে। এঘটনায় অভিযুক্ত এজিএস সহ ৩ জন হল সংসদ প্রতিনিধির আবাসিকতা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে এবং সেই সাথে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।এ বিষয় সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘আমি কালকের ঘটনা জানতে পেরেছি। হল সংসদ বা অন্য কেউ হল প্রশাসন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতি ব্যতীত এভাবে কোন শিক্ষার্থীর কক্ষ তল্লাশি চালাতে পারে না। যেহেতু এটি হলের বিষয় তাই হল প্রশাসন এবিষয়ে আগে ব্যবস্থা নিবে।’
উপদেষ্টা: এ্যাড. এনামুল হক এনাম সম্পাদক: মোঃ শামীম আহমেদ অফিসঃ ১৫০ নাহার ম্যানসন (৫ম তলা) মতিঝিল বানিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। খন্দকার এন্টারপ্রাইজ লি. এর পক্ষে কেএম সবুজ কর্তৃক প্রকাশিত। মোবাইল নং: ০১৭১৫-৬২৭৮৯৪, ০১৭৮৪-৮৩৮৬৮০ (বার্তাকক্ষ) ০১৯৯৯-৬৫২৩০৩ ই-মেইল: dailydhakabani@gmail.com
প্রকাশিত সংবাদপত্রের অংশ