ঢাকা জেলার সাভার সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাকির হোসেন ও তার স্ত্রী মনিরা সুলতানার সকল ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য তলব করেছে আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট। আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ২০০ (১) অনুযায়ী দেশের সব ব্যাংক, এমএফএস ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে।রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগরে অবস্থিত কর কমিশনারের কার্যালয়ের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের অতিরিক্ত সহকারী কর কমিশনার এ.এইচ.এম. আতাউর রহমান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত ব্যক্তিদের নামে থাকা সকল ধরনের হিসাবের তথ্য সরবরাহের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, জাকির হোসেন ও তার স্ত্রী মনিরা সুলতানার একক বা যৌথ নামে কিংবা তাদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত সকল ধরনের ব্যাংক হিসাবের (মেয়াদী আমানত, এফডিআর, সঞ্চয়ী, চলতি, ঋণ হিসাব, ফরেন কারেন্সি অ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট কার্ড, লকার, সঞ্চয়পত্র, বিনিয়োগ স্কিমসহ) শুরু থেকে হালনাগাদ বিবরণী সাত দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে। এমনকি হিসাব বন্ধ, সুপ্ত বা পূর্বে পরিচালিত হলেও তার তথ্য দিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।এছাড়া নির্ধারিত সময়ে তথ্য প্রদান না করলে আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ২৬৬(২)(গ) অনুযায়ী এককালীন ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং পরবর্তী প্রতিদিনের জন্য অতিরিক্ত ৫০০ টাকা জরিমানার বিধান প্রযোজ্য হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ধারা ৩১১(ক) অনুযায়ী অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ডের লক্ষ্যে ফৌজদারি কার্যক্রম গ্রহণের কথাও জানানো হয়।
চিঠিতে বিষয়টিকে জাতীয় রাজস্বের স্বার্থে ‘অতীব জরুরি ও গোপনীয়’ হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।এর আগে সাভার সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসে। অভিযোগ রয়েছে, স্বল্প বেতনের চাকরিতে থেকেও অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক বনে গেছেন তিনি। বিভিন্ন সূত্রে তার ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।এছাড়া জমি ক্রয়, বহুতল ভবন নির্মাণ, বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহারসহ তার জীবনযাত্রা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভূমি রেজিস্ট্রেশন সংশ্লিষ্ট নানা অনিয়ম, ভুয়া দলিল ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
দৈনিক ঢাকা বানী হাতে আসা ওই চিঠি ও সংশ্লিষ্ট কিছু নথিপত্র থেকেও বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। একই সঙ্গে অভিযোগ রয়েছে, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে চলমান একাধিক তদন্ত রহস্যজনক ভাবে আটকে আছে, যা প্রভাব খাটিয়ে ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে থামিয়ে রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি। এ অবস্থায় অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপদেষ্টা: এ্যাড. এনামুল হক এনাম সম্পাদক: মোঃ শামীম আহমেদ অফিসঃ ১৫০ নাহার ম্যানসন (৫ম তলা) মতিঝিল বানিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। খন্দকার এন্টারপ্রাইজ লি. এর পক্ষে কেএম সবুজ কর্তৃক প্রকাশিত। মোবাইল নং: ০১৭১৫-৬২৭৮৯৪, ০১৭৮৪-৮৩৮৬৮০ (বার্তাকক্ষ) ০১৯৯৯-৬৫২৩০৩ ই-মেইল: dailydhakabani@gmail.com
প্রকাশিত সংবাদপত্রের অংশ