যখন স্বৈরাচারের ভয়ে অন্য কোনো রাজনৈতিক দল ‘সংস্কার’ শব্দটির ‘স’ উচ্চারণ করতেও সাহস পায়নি, তখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি প্রণয়ন করেছিল। কারণ আমরা প্রত্যক্ষ করেছি, কীভাবে গত ১৬ বছরে দেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ব্যাংকিং ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। মেগা প্রকল্পের নামে হয়েছে শুধু লুটপাট ও দুর্নীতি।সোমবার বিকেলে বগুড়ার ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা সফরে এসে তিনি বিকেল পৌনে ৬টায় স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে জনসভা মঞ্চে উপস্থিত হন। এ সফরেই তিনি বগুড়াকে দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।
জনসভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্ট দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার কমিশন গঠন করেছে। জনগণের পক্ষ থেকে আমরা আমাদের স্বচ্ছ প্রস্তাবনা সেখানে জমা দিয়েছি। আমরা সবসময় বলি— যা করব, স্বচ্ছভাবেই করব; কোনো লুকোচুরি থাকবে না। গণতন্ত্রে মতের পার্থক্য থাকবেই, তবে আমাদের লক্ষ্য একটাই— দেশের মানুষের উন্নয়ন।দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, আমরা পর্যায়ক্রমে সেগুলোর বাস্তবায়ন শুরু করেছি। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম-মোয়াজ্জিনদের সম্মানী চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে দেশের খেটে খাওয়া মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে।অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, স্বল্প খরচে দেশের তরুণদের বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে আমরা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছি। ইনশাআল্লাহ, শিগগিরই এ বিষয়ে সুখবর পাওয়া যাবে।
এ ছাড়া শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘খাল খনন কর্মসূচি’ পুনরায় দেশব্যাপী চালু করার ঘোষণা দেন তিনি। আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে কৃষকের ফসল রক্ষা পায় এবং খরা মৌসুমে পানির সংকট কমে।বগুড়ার স্থানীয় উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথের কাজ দ্রুত শুরু করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানির সুবিধার্থে বগুড়া বিমানবন্দরকে কার্গো বিমান ওঠানামার উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। নবঘোষিত সিটি করপোরেশনকে একটি পরিকল্পিত ও নান্দনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলার আশ্বাসও দেন তিনি।এর আগে সকালে ঢাকা থেকে সড়কপথে বগুড়ায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি জেলা জজ আদালতের নবনির্মিত ভবন ও ‘ই-বেইল বন্ড’ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এরপর বগুড়া সিটি করপোরেশনের নামফলক উন্মোচন, গাবতলীর বাগবাড়ীতে পৈত্রিক ভিটা পরিদর্শন এবং শহীদ জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি, ফ্যামিলি কার্ড ও খাল খনন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। সন্ধ্যায় বগুড়া প্রেসক্লাবের নতুন ভবন উদ্বোধন শেষে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ ছাড়িয়ে মানুষের ভিড় শহরের প্রধান সড়কগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে।
উপদেষ্টা: এ্যাড. এনামুল হক এনাম সম্পাদক: মোঃ শামীম আহমেদ অফিসঃ ১৫০ নাহার ম্যানসন (৫ম তলা) মতিঝিল বানিজ্যিক এলাকা, ঢাকা-১০০০। খন্দকার এন্টারপ্রাইজ লি. এর পক্ষে কেএম সবুজ কর্তৃক প্রকাশিত। মোবাইল নং: ০১৭১৫-৬২৭৮৯৪, ০১৭৮৪-৮৩৮৬৮০ (বার্তাকক্ষ) ০১৯৯৯-৬৫২৩০৩ ই-মেইল: dailydhakabani@gmail.com
প্রকাশিত সংবাদপত্রের অংশ