শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ১০:১৫ অপরাহ্ন

দালালের খপ্পরে ভালুকা উপজেলা হাসপাতাল, বাড়তি খরচে নাজেহাল রোগীরাদালালের খপ্পরে ভালুকা উপজেলা হাসপাতাল, বাড়তি খরচে নাজেহাল রোগীরা

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
                                             
  •   Update Time : রবিবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৯৮k Time View  
  •                                      
                                   
                               

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দিন দিন বেড়েই চলেছে দালালদের দৌরাত্ম্য। এতে সরকারি হাসপাতালের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনরা। বাড়তি অর্থ খরচ করে বাধ্য হচ্ছেন প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে। কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা।

সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রধান ফটক, জরুরি বিভাগসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ওত পেতে থাকেন স্থানীয় কয়েকটি প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নিয়োজিত দালালরা। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে কেউ কৌশলে সরে পড়েন, আবার কেউ রোগী বা রোগীর স্বজন সেজে অবস্থান নেন।একাধিক রোগীর স্বজন অভিযোগ করে বলেন, সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও দালালদের প্ররোচনায় তাদের বাইরে পাঠানো হচ্ছে। ফলে বিনামূল্যে বা স্বল্প খরচে যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা পাওয়ার কথা, তা না পেয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে প্রাইভেট ক্লিনিকে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী সরকারি দায়িত্ব পালনের চেয়ে নিজস্ব বা চুক্তিবদ্ধ প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী পাঠাতে বেশি আগ্রহী।অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বক্তব্য বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর হাসপাতালের সেবার মান আগের তুলনায় উন্নত করার চেষ্টা চলছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে এবং বর্তমানে হাসপাতালেই বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে, যা আগে রোগীরা পেতেন না।

তবে তিনি স্বীকার করেন, এই উপজেলার বিপুল জনসংখ্যার তুলনায় হাসপাতালে যে জনবল ও সরঞ্জাম বরাদ্দ আসে, তা পর্যাপ্ত নয়। সীমিত সম্পদের মধ্যেই সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দালাল চক্র ও অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা না নিলে সরকারি হাসপাতালের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা আরও কমে যাবে। তারা বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 dailydhakabani
themesba-lates1749691102