মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:২৫ অপরাহ্ন

জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হচ্ছে: অর্থ উপদেষ্টা

স্টাফ রিপোর্টার
                                             
  •   Update Time : মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২৭k Time View  
  •                                      
                                   
                               

জ্বালানি সরবরাহ বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে ভেনেজুয়েলা ও ইরানকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। এই দুই দেশই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে সেখানে রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সঙ্গে কীভাবে ডিল করছে, সেটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সরকার এ ধরনের বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলায় কী ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, জ্বালানি খাতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। কয়েকদিন আগে এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে তিনি নিজেও উপস্থিত ছিলেন। তার ভাষায়, “জ্বালানি আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে দেশের স্থানীয় উৎপাদন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, শিল্পকারখানা সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়বে এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।”

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি খাতকে মূলত দুই ভাগে বিবেচনা করা হচ্ছে—পাওয়ার এবং এনার্জি। এই দুই দিককে সামনে রেখে একটি কমপ্রিহেনসিভ বা সমন্বিত পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর আওতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি আমদানি, জ্বালানির উৎসের বৈচিত্র্য এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা—সবকিছুই বিবেচনায় আনা হয়েছে।

নিজস্ব জ্বালানি উৎস ব্যবহারের বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান অর্থ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, দেশের অফশোর এলাকায় নিজস্ব ড্রিলিং কার্যক্রম কীভাবে জোরদার করা যায়, সে বিষয়টি পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়লার ব্যবহার কীভাবে আরও কার্যকরভাবে করা যায়, তাও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপাড়া কয়লাখনির কয়লা হার্ড রক হওয়ায় তা উত্তোলন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ প্রযুক্তি ও পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে। এসব বিষয়কে সামনে রেখে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এদিকে, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সরকারের উপদেষ্টাদের তুলনায় আমলাতন্ত্র বা ব্যুরোক্রেসি বেশি শক্তিশালী এবং তারাই প্রকৃত অর্থে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আপনারা কি দেখছেন না যে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে? অনেক সময় আপনারা দেখতে চাচ্ছেন না, আবার যারা দেখছেন, তারাও সাহস করে বলতে পারছেন না।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের দেশে এ ধরনের একটি প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। কোনো কোনো সময় এ নিয়ে বেশি কথা বলা হয়, আবার কোনো সময় কম বলা হয়। তবে বাস্তবতা হলো, সরকার তার দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।”

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 dailydhakabani
themesba-lates1749691102