
ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র কোনো রাজনৈতিক পক্ষের অবস্থান নেবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশের জনগণ ভোটের মাধ্যমে যাকে নির্বাচিত করবে, যুক্তরাষ্ট্র সেই জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়ে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গেই কাজ করবে।বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। বৈঠকটি দুপুর ১২টার দিকে সিইসির কার্যালয়ে শুরু হয়।
রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে খুবই আগ্রহী। আমি এই নির্বাচন ঘিরে কী ঘটে, সেটি দেখার অপেক্ষায় আছি এবং ফলাফল জানার জন্য মুখিয়ে রয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনোভাবেই হস্তক্ষেপ করে না এবং কোনো পক্ষও নেয় না। নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করার অধিকার একমাত্র বাংলাদেশের জনগণের, অন্য কারও নয়।’তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ যাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করবে, আমরা সেই সরকারের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করতে প্রস্তুত। এটি আমাদের নীতিগত অবস্থান।’
রাষ্ট্রদূত আরও জানান, সম্প্রতি তিনি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সেই সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গত সপ্তাহে প্রধান উপদেষ্টা আমাকে বলেছেন যে, তিনি আশা করছেন নির্বাচনের দিনটি হবে উৎসবমুখর। আমিও একই প্রত্যাশা করি—এই নির্বাচন যেন একটি আনন্দময় ও উৎসবপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাংলাদেশের মানুষ নির্বিঘ্নে ও স্বাধীনভাবে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারবেন।’
নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার যে তথ্যগুলো আমার সঙ্গে শেয়ার করেছেন, সেগুলো শুনে আমি সন্তুষ্ট। নির্বাচন পরিচালনায় কমিশনের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে পেরে আমি আশাবাদী হয়েছি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আপনাদের মতো আমিও ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ফলাফলের অপেক্ষায় আছি এবং আশা করি এটি একটি সফল ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হিসেবে অনুষ্ঠিত হবে।’বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা ডেভিড মু এবং ফিরোজ আহমেদ।