
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি একটি শান্তিকামী রাজনৈতিক দল। আমরা সবসময় শান্তিতে বিশ্বাস করি এবং একটি সহনশীল, মানবিক ও গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই। তিনি বলেন, আমাদের রাজনীতিতে ধর্ম, বর্ণ কিংবা জাত-পাত কোনো বিভাজনের ভিত্তি নয়। আমাদের কাছে সবার আগে গুরুত্বপূর্ণ হলো দেশের মানুষ। মানুষকে মানুষ হিসেবে সম্মান করা, তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য। আমরা যদি দেশে সত্যিকার অর্থে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারি, তাহলেই কেবল দেশ ও জনগণের প্রকৃত সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, ভোটাধিকার রক্ষার আন্দোলনে গিয়ে সিরাজগঞ্জের মেরি আজ সারাজীবনের জন্য দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। মেরির মতো হাজার হাজার মানুষ গত ১৬-১৭ বছর ধরে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কেউ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, কেউবা জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করেছেন। প্রশ্ন হলো, তারা কেন এই ত্যাগ স্বীকার করেছেন? কারণ, একটি কর্তৃত্ববাদী শক্তি দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার, কথা বলার অধিকার এবং ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল। সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতেই মেরিসহ আমাদের হাজার হাজার ভাই-বোন নির্যাতিত হয়েছেন।
তারেক রহমান বলেন, এই আত্মত্যাগের যথাযথ প্রতিদান দিতে হলে শুধু সভা-সমাবেশ করলেই চলবে না। তাদের প্রতিবাদ ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে, তাদের প্রতিবাদ ছিল সারা বাংলাদেশের মানুষের অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য। এই অধিকার ফিরিয়ে আনতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং নির্দিষ্ট দিনে, নির্দিষ্ট লক্ষ্যে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি আগামী ১২ তারিখে জনগণকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া এলাকায় বিসিক শিল্পপার্ক মাঠে অনুষ্ঠিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটে জনসভা মঞ্চে উপস্থিত হন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় তার সফরসঙ্গী হিসেবে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। দীর্ঘদিন পর প্রিয় নেতাকে কাছে পেয়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে মুহুর্মুহু করতালি ও স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো জনসভাস্থল। প্রায় ১৯ বছর পর সিরাজগঞ্জে তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।শনিবার সকাল ১০টা থেকেই সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং সমর্থকরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন। দুপুরের মধ্যেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় বিসিক শিল্পপার্ক মাঠ। ধানের শীষের স্লোগানে স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।
বিকাল পৌনে ৩টার দিকে জেলা বিএনপির সভাপতি রুমানা মাহমুদের সভাপতিত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী জনসভা শুরু হয়। এ জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীম, পাবনা-৪ আসনের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী এম আকবর আলী, পাবনা-৫ আসনের প্রার্থী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের প্রার্থী এম এ মুহিত, সিরাজগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী সেলিম রেজা, পাবনা-১ আসনের প্রার্থী শামসুর রহমান, পাবনা-২ আসনের প্রার্থী সেলিম রেজা হাবিব, পাবনা-৩ আসনের প্রার্থী হাসান জাফির তুহিনসহ আরও অনেকে।
উল্লেখ্য, তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে সিরাজগঞ্জ সফর করেছিলেন। সে সময় তিনি কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল ধোপাকান্দি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় বক্তব্য দেন। দীর্ঘ বিরতির পর আবার সিরাজগঞ্জে তার আগমন বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও আশার সঞ্চার করেছে।