
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (ইএএসডি) নামের একটি সংস্থা সম্প্রতি নতুন একটি জনমত জরিপের ফলাফল প্রকাশ করেছে। এই জরিপে দেখা গেছে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সবচেয়ে বেশি আসন জয়ের সম্ভাবনা রাখছে। সংস্থার তথ্যানুযায়ী, বিএনপি জোট প্রায় ২০৮টি আসনে জয়ী হতে পারে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের সম্ভাব্য আসন সংখ্যা ৪৬টি। এছাড়া জাতীয় পার্টি ৩টি, অন্যান্য দল ৪টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১৭টি আসনে জয়ী হতে পারেন। এছাড়া ২২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হাড্ডাহাড্ডি বা ‘ক্লোজড কনটেস্ট’ হতে পারে।
জরিপটি করা হয়েছে ৪১,৫০০ জন মানুষকে নিয়ে, যা সংস্থার দাবি অনুসারে দেশের অন্যান্য জরিপের তুলনায় সবচেয়ে বড় নমুনা। জরিপটি ৩০০টি সংসদীয় আসনের সবটিতে প্রাইমারি স্যাম্পলিং ইউনিট (পিএসইউ) পদ্ধতি ব্যবহার করে সম্পন্ন করা হয়েছে। দেশব্যাপী ২,৭৬৬টি পিএসইউ নির্বাচন করা হয়েছে, এবং প্রতিটি পিএসইউ থেকে ধারাবাহিকভাবে ১৫টি পরিবার নির্বাচন করা হয়েছে। প্রতিটি পরিবার থেকে একজন যোগ্য উত্তরদাতার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে, যাতে পদ্ধতিগত ও পক্ষপাতহীন তথ্য সংগ্রহ নিশ্চিত হয়। গ্রামীণ এলাকার জন্য ইউনিয়ন এবং শহরাঞ্চলের জন্য ওয়ার্ডগুলোকে ক্লাস্টার হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, যা নিশ্চিত করেছে যে জরিপে গ্রাম ও শহরের মানুষের সমান অংশগ্রহণ রয়েছে।
উত্তরদাতাদের লিঙ্গ ও বয়স অনুযায়ী বিবরণে দেখা গেছে, ২৬,৫৬০ জন পুরুষ (৬৪%) এবং ১৪,৯২২ জন নারী (৩৬%) ছিলেন। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৮-৩০ বছর বয়সী তরুণরা ৩৭.২% অংশগ্রহণ করেছেন। ৩১ থেকে ৫০ বছর বয়সীরা মোট অংশগ্রহণকারীর ৪৫.২% এবং শিক্ষার্থীরা ১৪.৫%।
পেশাগতভাবে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যবসায়ী সর্বাধিক, মোট ২১.৯%। এর মধ্যে বড় ও মাঝারি ব্যবসায়ী ৫% এবং ছোট ব্যবসায়ী ১৬.৯%। কৃষি ও গ্রামীণ শ্রমজীবীরা ১৩.২%, গৃহস্থালি ও অনানুষ্ঠানিক খাতের অংশগ্রহণকারী ১৯.১% এবং শিক্ষার্থীরা ১৪.৫%।
রাজনৈতিক পছন্দের দিক থেকে জরিপে দেখা গেছে, ভোটারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সমর্থন পেয়েছে বিএনপি—৬৬.৩% ভোটার বিএনপিকে সমর্থন করছেন। জামায়াতে ইসলামী ১১.৯%, জাতীয় পার্টি ৪%, স্বতন্ত্র প্রার্থী ২.৬% এবং এনসিপি ১.৭% ভোট পেয়েছে। নারী ভোটারের মধ্যে বিএনপির সমর্থন সবচেয়ে বেশি, ৭১.১% নারী ভোটার বিএনপিকে সমর্থন করেছেন। অঞ্চলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে বিএনপির সমর্থন যথাক্রমে ৭৬.৮% এবং ৭৫.৬%। বরিশাল ও খুলনায় জামায়াত জোটের শক্তিশালী অবস্থান লক্ষ করা গেছে।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সর্বাধিক সমর্থন পেয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান—৬৮% উত্তরদাতা তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান। জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের পক্ষে ১৪% এবং এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের পক্ষে ২% ভোটার সমর্থন দিয়েছেন। এছাড়া ১৬% ভোটার এ বিষয়ে মত প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক।
শামীম হায়দার তালুকদার জানান, অনেক আগে আওয়ামী লীগের ভোটার ছিলেন এমন মানুষ এখন বিএনপির পক্ষে মত প্রকাশ করছেন। তাদের মধ্যে ৮০% আসন্ন নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া, সাবেক আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ১৫% জামায়াতকে সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন এবং ৫% অন্যান্য দলকে সমর্থন দিয়েছেন।
সারসংক্ষেপে বলা যায়, এই জরিপে দেশে রাজনৈতিক ধারা, সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রতি সমর্থন খুবই সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে যুবসমাজ, নারী ভোটার এবং শহর-গ্রাম উভয় অঞ্চলের সমান অংশগ্রহণ এই জরিপের ফলাফলকে আরও বিশ্বাসযোগ্য ও বিস্তারিত করেছে। এটি বোঝায় যে, আসন্ন নির্বাচন রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং বিএনপির সম্ভাব্য জয় এবং সমর্থন দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক মানচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।