
গত নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা পুলিশ সদস্যদের এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দায়িত্ব থেকে দূরে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নির্বাচন ঘিরে প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে কাউকে কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত করতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, যে কোনো ধরনের জরুরি বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য পর্যাপ্ত স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
পুলিশ সদস্যদের নির্বাচনী দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি জানান, নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে গত নির্বাচনে যারা দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তাদের এবার নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে। পুলিশ সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছে এবং করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তার ভাষায়, “এই নির্বাচনের মাধ্যমে পুলিশ বাহিনী নিজেদের হারানো ইমেজ ফিরিয়ে আনতে চায়।”আইজিপি আরও বলেন, বড় ধরনের সহিংসতা মোকাবিলায় পুলিশ পুরোপুরি সক্ষম। নির্বাচনকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে তিন স্তরে সাজানো হয়েছে। প্রথমত, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। দ্বিতীয়ত, ভ্রাম্যমাণ টহল টিম থাকবে, যারা প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাবে।
তৃতীয়ত, যেকোনো বড় পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আলাদা স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি বলেন, সারাদেশে মোট ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন পুলিশ সদস্য নির্বাচনী নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন। পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং আনসার সদস্যরাও নিরাপত্তা রক্ষায় মাঠে থাকবেন। সমন্বিতভাবে এই বাহিনীগুলো কাজ করবে বলে তিনি জানান।আইজিপি বাহারুল আলম আরও বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে এরই মধ্যে ২৭ হাজার ৯৯৫টি বৈধ অস্ত্র জমা পড়েছে।
ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে প্রায় ৯০ শতাংশ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বডি ওর্ন ক্যামেরা এবং ড্রোন ব্যবহার করা হবে, যাতে সার্বিক পরিস্থিতি সরাসরি নজরদারিতে রাখা যায়।সহিংসতার বিষয়ে তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকে কিছু বিচ্ছিন্ন সহিংস ঘটনা ঘটেছে। ১১ ডিসেম্বর থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশে মোট ৩১৭টি সহিংস ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৫ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৬০৩ জন। তবে পুলিশ এসব ঘটনা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্বাভাবিক রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ ছাড়া আইজিপি বলেন, যদি কোথাও নির্বাচনের দিন মব সৃষ্টির চেষ্টা বা বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে, তাহলে শুধু ওই কেন্দ্র নয়, প্রয়োজনে পুরো আসনের ভোট গ্রহণ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে নির্বাচন কমিশন। এ বিষয়ে পুলিশ নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী কঠোর অবস্থানে থাকবে বলেও তিনি জানান।সবশেষে আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভোটাধিকার নির্বিঘ্নে প্রয়োগের সুযোগ করে দেওয়াই পুলিশের প্রধান লক্ষ্য। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ বাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে।