বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
সাহস নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার লাল পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন ঢাবি ভিসি প্রধান উপদেষ্টাসহ সব উপদেষ্টার সম্পদ বিবরণী প্রকাশ নির্বাচনকে ঘিরে কিশোরগঞ্জে সেনা–পুলিশ–র‍্যাব–বিজিবির যৌথ মহড়া সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা গত নির্বাচনে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যরা এবার নির্বাচনী দায়িত্বে থাকছে না: আইজিপি বিএনপির ৩ প্রার্থীর নির্বাচনে বাধা নেই কমলনগরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে হামলা, নারী সহ আহত ৫, দুই জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক দুইবার দাড়িপাল্লায় ভোট দিয়েছি—দুইটি জান্নাত পাবো কিনা? প্রশ্নযুক্ত ফ্যাস্টুন নিয়ে বিএনপির সমাবেশে যুবক বিএনপি জোট ২০৮, জামায়াত জোট পেতে পারে ৪৬টি আসন: ইএএসডি

সাহস নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

স্টাফ রিপোর্টার
                                             
  •   Update Time : মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৪k Time View  
  •                                      
                                   
                               
সাহস নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার
সাহস নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে সাহস নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, ‘ভয়কে পেছনে রেখে, সাহসকে সামনে এনে ভোটকেন্দ্রে যান। আপনার একটি ভোট শুধু একটি সরকার নির্বাচন করবে না, এটি ১৭ বছরের নীরবতার জবাব দেবে, বাধাহীন ফ্যাসিবাদের জবাব দেবে, জাতিকে নতুনভাবে গঠিত করবে এবং প্রমাণ করবে, এই দেশ তার তরুণ ও নারী এবং সংগ্রামী জনতার কণ্ঠ আর কোনোদিন হারাতে দেবে না।’মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর গণভোট বিষয়ে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আজ আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি, এক অতি তাৎপর্যপূর্ণ, ঐতিহাসিক ও ভবিষ্যৎ-নির্ধারক মুহূর্তে। আর মাত্র একদিন পরই সারা দেশে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং তার সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোট। জাতির বহু বছরের আকাঙ্ক্ষার দিন।’মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সব শহীদকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘যাদের রক্তের বিনিময়ে আমরা বাংলাদেশ পেয়েছি এবং স্বৈরাচারবিরোধী দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের সাফল্যের পর আজ আবার গণতান্ত্রিক উত্তরণের যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। আপামর জনগণের, বিশেষ করে জুলাইয়ের যোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ছাড়া এই নির্বাচন, এই গণভোট কোনোটিই সম্ভব হতো না। সমগ্র জাতি তাই তাদের কাছে চিরঋণী। প্রত্যেক জাতির জীবনে এমন কিছু দিন আসে, যার তাৎপর্য থাকে সুদূরপ্রসারী।

যেদিন নির্ধারিত হয় রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা, গণতন্ত্রের চরিত্র এবং স্থায়িত্ব ও আগামী প্রজন্মের ভাগ্য। আগামী পরশু ঠিক তেমনই একটি দিন, যেদিন দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আমরা সবাই মিলে নতুন সরকার গঠনের নির্বাচন করব এবং পাশাপাশি গণভোটের মাধ্যমে আমাদের প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণ করব।’প্রধানি উপদেষ্টা বলেন, ‘ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়ে গেছে। এখন আমাদের সবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা। এই মুহূর্তে রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন নাগরিক হিসেবে আপনাদের সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা ভাগ করে নেওয়াকে আমি আমার নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব মনে করেছি।’

তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচনকে ঘিরে সার্বিক প্রচার-প্রচারণা পূর্ববর্তী যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে শান্তিপূর্ণ হয়েছে। মত ও আদর্শের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক দলগুলো সংযম দেখিয়েছে, প্রার্থীরা দায়িত্বশীল আচরণ করেছেন এবং সাধারণ মানুষ সচেতন থেকেছেন। এই পরিবেশ হঠাৎ করে তৈরি হয়নি, এটি সম্মিলিত দায়িত্ববোধের ফল। এজন্য আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই দেশের সব রাজনৈতিক দল, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, ভোটার, নির্বাচন কমিশন, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী এবং নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের প্রতিটি সদস্যকে আপনাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি আশাব্যঞ্জক পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে পেরেছি।’

তবে, এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যেও আমাদের হৃদয়ে গভীর বেদনার ছায়া রয়েছে। নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পর এবং প্রচার-প্রচারণাকালে সংঘটিত কয়েকটি সহিংস ঘটনায় আমরা কিছু মূল্যবান প্রাণ হারিয়েছি। এই সহিংসতা জাতীয় বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। গণতন্ত্রের চর্চায় কোনো প্রাণ ঝরে যাওয়া, কোনো সভ্য রাষ্ট্রের জন্যই গ্রহণযোগ্য নয় যোগ করেন প্রধান উপদেষ্টা।ড মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে ৫১টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, যা এ যাবৎকালের যেকোনো নির্বাচনের মধ্যে সর্বাধিকসংখ্যক রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ। স্বতন্ত্রসহ মোট প্রার্থীর সংখ্যা দুই হাজারেরও বেশি। আগের জাতীয় নির্বাচনগুলোতে এর চেয়ে বেশি প্রার্থী প্রায় কখনোই দেখা যায়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এবারের নির্বাচন শুধু আরেকটি নিয়মিত নির্বাচন নয়। এটি একটি গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা ক্ষোভ, বৈষম্য, বঞ্চনা ও অবিচারের বিরুদ্ধে জনগণের যে জাগরণ আমরা দেখেছি, এই নির্বাচন তার সাংবিধানিক প্রকাশ। রাজপথের সেই দাবি আজ আপনাদের ব্যালটের মাধ্যমে উচ্চারিত হতে যাচ্ছে। তাই এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 dailydhakabani
themesba-lates1749691102