
ভালুকা উপজেলা জুড়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও আশপাশের সড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার, ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা, সিএনজি ও ভ্যানের বেপরোয়া চলাচলে চরম যানজট ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও প্রতিদিন শত শত অবৈধ যানবাহন মহাসড়ক ও শাখা সড়কে দাপটের সঙ্গে চলাচল করছে। ফলে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, যাত্রী ও দূরপাল্লার যানবাহনের চালকরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভালুকা বাসস্ট্যান্ড, থানা মোড়, পল্লী বিদ্যুৎ মোড়, সরকারি কলেজ এলাকা, ভরাডোবা ইউনিয়নের নতুন ও পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, হাজির বাজার, মায়ের মসজিদ ও আইডিয়াল মোড়সহ অন্তত অর্ধশতাধিক পয়েন্টে অবৈধ যানবাহনের আধিপত্য। এসব গাড়ির অধিকাংশ চালকের নেই বৈধ লাইসেন্স বা প্রশিক্ষণ। উল্টো পথে চলাচল, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, হঠাৎ ব্রেক কিংবা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা।
পৌরসভার বাসিন্দা হাবিব (৩৮) জানান, মহা সড়কের প্রায় প্রতিটি মোড়েই অটোরিকশা উল্টো দিক থেকে ঢুকে পড়ে। পথচারীদের হাঁটার নিরাপদ জায়গা নেই। স্কুল-কলেজের সামনে দীর্ঘ যানজটে অ্যাম্বুলেন্স ও আটকে থাকে। এতে জরুরি রোগী পরিবহনে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটের ট্রাকচালক হুমায়ুন (৫০) বলেন, অটো চালকরা বড় গাড়ির সামনে হঠাৎ লাইন কেটে দেয়। ব্রেক ফেল করলে সংঘর্ষ অনিবার্য। গত মাসে এমন দুর্ঘটনায় এক ব্যক্তির পা ভেঙে যায় বলে দাবি করেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় নাগরিক অভিযোগ করেন, অবৈধ অটোরিকশা চালকদের একটি অংশ ভাসমান এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ মাদক পরিবহন, চুরি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত। তারা জানান, গত বছর মাস্টারবাড়ী এলাকায় অটো চালকের ছদ্মবেশে দুই যুবককে ছিনতাইয়ের পর হত্যা করা হয়েছিল। এমন অনেক ঘটনা আড়ালেই থেকে যায় বলে অভিযোগ তাদের।
এ বিষয়ে ভরাডোবা হাইওয়ে থানার ওসি ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, ভালুকা অঞ্চলে থ্রি-হুইলার ও অটোরিকশার সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ছে। তারপরও গত দুই মাসে ছয় শতাধিক অটো জব্দ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মহাসড়কে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং এনফোর্সমেন্টের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে।স্থানীয়দের দাবি, নিয়মিত অভিযান, লাইসেন্স যাচাই, নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড নির্ধারণ ও কঠোর শাস্তির মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রশাসনের কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ চান তারা।