
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই মূলত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বীজ রোপিত হয়েছিল। ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সেই সংগ্রামই পরবর্তীতে বাঙালির রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও জাতীয় মুক্তির আন্দোলনে রূপ নেয় এবং শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতা অর্জনের পথ সুগম করে।শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে মহান একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এ ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভাষা আন্দোলনের চেতনা ছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং সমান অধিকারের দাবি তোলা। সেই চেতনাই মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল। তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার মূল দর্শন হলো— দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পাহাড়ি ও সমতলের সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক যেন ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও মানবিক মর্যাদা ভোগ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।
ইশরাক হোসেন আরও উল্লেখ করেন, আমরা সব সময় বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক, স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছি। তার ভাষায়, **বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল** সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করেছে। কিন্তু বিগত ১৭ বছরে নির্বাচন ব্যবস্থা ও গণতন্ত্রকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে, যার ফলে প্রকৃত অর্থে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।প্রতিমন্ত্রী বলেন, যারা নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের দাবিদার হিসেবে তুলে ধরেছিল, তারাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিক্রি করে দিয়েছে। দেশের সম্পদ লুটপাট করা হয়েছে, গুম-খুন ও হত্যার মাধ্যমে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, তবে আজ নির্বাচনের মাধ্যমে স্বাধীন দেশের একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় আমরা আবার ফিরে এসেছি। জনগণের ভোটে একটি নির্বাচিত সরকার গঠিত হয়েছে, যা দেশের জন্য নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এখন মানুষের প্রত্যাশা নানামুখী— কোনো অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা ভিন্ন, কোনো শ্রেণি-পেশার মানুষের চাহিদা ভিন্ন। এই সব প্রত্যাশা পূরণে সরকার ধাপে ধাপে কাজ করবে এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে সচেষ্ট থাকবে।শেষে তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করেই একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।