রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৫:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জামায়াত আমিরের বিতর্ক এবারের বইমেলায় ১৭ কোটি টাকার বই বিক্রি সংসদে দেখে দেখে বক্তব্য দেওয়া ‘অ্যালাউড’ না: স্পিকার আগামীকাল দিনাজপুরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঈদে ঢাকা ছাড়লে নগদ অর্থ–স্বর্ণালংকার থানায়ও রাখা যাবে: ডিএমপি কমিশনার বিরোধী দল অসাংবিধানিকভাবে সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ করবে সরকার মাদরাসা শিক্ষার্থী ও এতিম শিশুদের নিয়ে মানবিক যাত্রা ফাউন্ডেশনের ইফতার মাহফিল সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন মির্জা আব্বাস সংবিধান অনুযায়ী সংসদ আহ্বান, ‘সংস্কার পরিষদ’ বলে কিছু নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এবারের বইমেলায় ১৭ কোটি টাকার বই বিক্রি

নিজস্ব প্রতিবেদক
                                             
  •   Update Time : রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬
  • ৫k Time View  
  •                                      
                                   
                               
এবারের বইমেলায় ১৭ কোটি টাকার বই বিক্রি
এবারের বইমেলায় ১৭ কোটি টাকার বই বিক্রি

এবারের অমর একুশে বইমেলা–এ অংশ নেওয়া ২৬৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রথম ১৭ দিনে তাদের মোট বই বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮ কোটি টাকা। বইমেলায় অংশগ্রহণকারী মোট ৫৮৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪টি ছিল মিডিয়া ও স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট এবং বাকি ৫৭০টি ছিল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান।

মেলা পরিচালনা কমিটির হিসাবে গড় হিসাবে ৫৭০টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের মোট বিক্রি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭ কোটি টাকা। অন্যদিকে বাংলা একাডেমি ১৪ মার্চ পর্যন্ত ১৭ দিনে নিজস্ব স্টলে ১৭ লাখ ৪ হাজার ৬২৯ টাকার বই বিক্রি করেছে।

মেলা পরিচালনা কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অনেক ক্ষেত্রে বেশি ইউনিট বরাদ্দ পাওয়া প্রতিষ্ঠানের তুলনায় কম ইউনিট পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রি বেশি হয়েছে। মেলায় বাংলা একাডেমিসহ সব প্রতিষ্ঠানের বই ২৫ শতাংশ কমিশনে বিক্রি হয়েছে।

বইমেলার তথ্যকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ মার্চ পর্যন্ত ১৭ দিনে মেলায় ১ হাজার ৭৭১টি নতুন বই জমা পড়েছে। তবে সব প্রকাশিত বই তথ্যকেন্দ্রে জমা না হওয়ায় প্রকৃত নতুন বইয়ের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। নিবন্ধিত মোড়ক উন্মোচিত বইয়ের সংখ্যা ছিল ২৫২টি।

রোববার (১৫ মার্চ) বইমেলার মূল মঞ্চে সমাপনী অনুষ্ঠানে মেলার প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য-সচিব সেলিম রেজা। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। এ বছর মেলা অনুষ্ঠিত হয় মোট ১৮ দিন। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রোজার কারণে নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে ২৬ ফেব্রুয়ারি মেলা শুরু হয়। এবারের বইমেলার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ এবং সেই প্রতিপাদ্যকে কেন্দ্র করেই আয়োজন সাজানো হয়।

বিক্রি ও বই প্রকাশ কমেছে

গত বছর মাসব্যাপী বইমেলায় অংশ নেওয়া অর্ধেক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের বিক্রির তথ্য অনুযায়ী প্রায় ২০ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছিল। পরে বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রি যুক্ত করে মোট প্রায় ৪০ কোটি টাকার বই বিক্রির তথ্য প্রকাশ করে মেলা পরিচালনা কমিটি।

গত বছর মেলায় অংশ নেয় ৭২১টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ১৮টি ছিল মিডিয়া ও স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট এবং ৭০৩টি ছিল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। সেই তুলনায় এবারের মেলায় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে। এছাড়া ২৮ দিনের পরিবর্তে এবার মেলা হয়েছে ১৮ দিন, যার প্রভাব পড়েছে বিক্রির ওপর।

এর আগে ২০২৪ সালে বইমেলায় বিক্রি হয়েছিল প্রায় ৬০ কোটি টাকার বই এবং ২০২৩ সালে বিক্রি হয়েছিল ৪৭ কোটি টাকার বই।

এবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৫৮৪টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১০৬৮ ইউনিটের স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোনো প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। এর মধ্যে এক ইউনিটের ২৮৭টি, দুই ইউনিটের ২২৫টি, তিন ইউনিটের ৪৬টি, চার ইউনিটের ২৭টি, পাঁচ ইউনিটের ২৯টি এবং ছয় ইউনিটের ৩টি স্টল ছিল।

শিশুদের জন্য ৬৩টি প্রতিষ্ঠানকে ১১১ ইউনিটের স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়। লিটল ম্যাগাজিন চত্বর রাখা হয় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চের পাশে, যেখানে ৯০টি লিটল ম্যাগাজিন স্টল ছিল।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টল ভাড়া মওকুফ করা হয়েছে। যারা আগেই স্টল ভাড়ার টাকা জমা দিয়েছিল, তাদের সেই অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে।

শিশুদের জন্য বিশেষ আয়োজন

এ বছর শিশু চত্বর মূল মেলার মধ্যেই, মুক্ত মঞ্চের সামনে বড় পরিসরে স্থাপন করা হয়, যাতে শিশুরা সহজে ঘুরে বেড়াতে পারে এবং বই সংগ্রহ করতে পারে। প্রতি শুক্রবার ও শনিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ‘শিশুপ্রহর’ ঘোষণা করা হয়।

শিশু-কিশোরদের জন্য আবৃত্তি, সংগীত ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি পাপেট শো ও বায়োস্কোপও শিশুদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ ছিল।

সমাপনী অনুষ্ঠান

সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সংস্কৃতি সচিব মো. মফিদুর রহমান।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বইমেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত আটজন লেখকের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। তবে মনোনীত হওয়া সত্ত্বেও কবিতা বিভাগে মোহন রায়হানকে পুরস্কার দেওয়া হয়নি।

সমাপনী দিনে বাংলা একাডেমি প্রবর্তিত ‘গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার’ও প্রদান করা হয়। প্রতিবেদনে সেলিম রেজা বলেন, “বইমেলা শুধু বই বিক্রির জায়গা নয়; এটি আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ। তাই বইমেলাকে বলা হয় মিলনমেলা—প্রাণের বইমেলা।”

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 dailydhakabani
themesba-lates1749691102