
সাভার উপজেলা ভূমি কার্যালয়ে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে জমির নামজারি (খারিজ) করতে এসে ভ্রাম্যমাণ আদালতের হাতে ধরা পড়েছেন আশরাফ উদ্দিন (৫৩) ওরফে ‘শুটার আশরাফ’। জালিয়াতির দায়ে তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হলেও আটকের পর বেরিয়ে এসেছে তার চাঞ্চল্যকর পরিচয়। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ ইয়ামিন হত্যাসহ একাধিক হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে সাভার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল আমিনের কার্যালয়ে শুনানির সময় এই জালিয়াতি ধরা পড়ে।
দণ্ডপ্রাপ্ত আশরাফ সাভারের ভাকুর্তা ইউনিয়নের খাগুড়িয়া এলাকার মৃত আফসার উদ্দিনের ছেলে।আদালত সূত্রে জানা যায়, আশরাফ উদ্দিন একটি জমির নামজারি আবেদনের শুনানিতে অংশ নিতে ভূমি কার্যালয়ে আসেন। শুনানির সময় তিনি একজন মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে তৈরি করা ভুয়া কাগজপত্র দাখিল করেন। কাগজপত্র যাচাই-বাছাইকালে জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণিত হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল আমিন তাকে তাৎক্ষণিক আটক করে কারাদণ্ড প্রদান করেন আশরাফ উদ্দিন এলাকায় প্রভাবশালী ‘শুটার আশরাফ’ হিসেবে পরিচিত। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন সাভারে ছাত্র হত্যা ও বহুল আলোচিত শহীদ ইয়ামিন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলার পর থেকে তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। মঙ্গলবার ছদ্মবেশে ভূমি কার্যালয়ে জালিয়াতি করতে এসেই তিনি প্রশাসনের জালে আটকা পড়েন।
সাভার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল আমিন বলেন, “জমি সংক্রান্ত শুনানিতে জালিয়াতি ও ভুয়া কাগজপত্র উপস্থাপনের দায়ে তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে। আইনের ব্যত্যয় ঘটানোর কোনো সুযোগ নেই। তবে ছাত্র হত্যা মামলায় তাকে নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানো হবে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জালিয়াতির মামলায় সাজা শেষে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।