
অবৈধ অটোরিকশা ও সিএনজির দখলে ময়মনসিংহের ভালুকা পৌর শহরের মহাসড়ক ও উপসড়কগুলো। ফলে দিন দিন তীব্রতর হচ্ছে যানজট, ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। একসময় শুধু ঈদ বা বিশেষ দিনগুলোতে যানজট তীব্র আকার নিলেও এখন তা নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে।সরেজমিনে দেখা যায়, ভালুকা বাসস্ট্যান্ড এলাকা, হাসপাতাল সড়ক, পাঁচ রাস্তার মোড়, গফরগাঁও রোড ও মধ্যবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে দীর্ঘ সময় ধরে যানজট লেগেই থাকে। বিশেষ করে পশু হাসপাতাল রোড, পাচঁ রাস্তার মোড়, মধ্য বাজার এলাকায় পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ।স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ অটোবাইক ও সিএনজির অনিয়ন্ত্রিত চলাচলই এই যানজটের মূল কারণ। নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বেকারত্বের অজুহাতে তা কার্যকর করা হচ্ছে না। পাশাপাশি অদক্ষ চালকরা ট্রাফিক আইন অমান্য করে যেখানে-সেখানে গাড়ি পার্কিং, প্রতিযোগিতামূলক ওভারটেকিংসহ নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছেন।এছাড়া পৌরসভার বিভিন্ন উপসড়কে রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণকাজ, ভাঙাচোরা সড়ক এবং সড়কের পাশে যত্রতত্র দোকানপাট গড়ে ওঠায় যান চলাচল আরও ব্যাহত হচ্ছে। ফলে স্কুল-কলেজ ও অফিসগামী মানুষ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, শহরের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে অটোরিকশার গ্যারেজ ও চার্জিং স্টেশন গড়ে তুলেছে একটি অসাধু চক্র। তারা বিদ্যুতের মিটারের মাধ্যমে অবৈধ সংযোগ দিয়ে এই ব্যবসা পরিচালনা করছে। এর পেছনে কিছু অসাধু ট্রাফিক পুলিশ, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে।ভুক্তভোগী যাত্রী মাছুম বলেন, মেজর ভিটা থেকে বাসস্ট্যান্ডে যেতে আগে ৫ থেকে ১০ মিনিট লাগতো, এখন সময় লাগে ২৫ থেকে ৩০ মিনিট। প্রতিদিনের এই যানজট আমাদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।এদিকে যানবাহনের চাপ বাড়ায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও ভেঙে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শহরবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করবে।এ বিষয়ে ভরাডোবা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, মহাসড়কে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে। গত কয়েকদিনে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু যানবাহন আটক করা হয়েছে। যারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।সচেতন মহল বলছেন, সমন্বিত উদ্যোগ, কঠোর নজরদারি ও আইনের সঠিক প্রয়োগ ছাড়া ভালুকার এই দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।