
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে আপন ফুফুর সরলতার সুযোগ নিয়ে বিদেশ যাওয়া ও বোনের বিয়ের কথা বলে নেওয়া ৪ লাখ ৬১ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী বিবি হালিমা পাওনা টাকা ফেরত পেতে এবং জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে জেলা পুলিশ সুপার ও আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।অভিযুক্ত যুবকের নাম মো. ইব্রাহিম। তিনি উপজেলার চর কাদিরা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মো. আজাদের ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজনে ফুফু বিবি হালিমার কাছ থেকে স্ট্যাম্পের চুক্তিনামায় ৩ লাখ ১১ হাজার টাকা ধার নেন ইব্রাহিম। পরবর্তীতে বিদেশে থাকাকালীন বোনের বিয়ের খরচ বাবদ আরও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ধার নেন তিনি। সর্বমোট ৪ লাখ ৬১ হাজার টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও দেশে ফিরে ইব্রাহিম টাকা দিতে কালক্ষেপণ শুরু করেন।ভুক্তভোগী বিবি হালিমা জানান, “আমরা অনেক কষ্ট করে টাকাগুলো তাকে দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন টাকা ফেরত চাইলে সে আমাকে ও সাক্ষীদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ-বৈঠক হলেও সে কারো কথা মানছে না। এমনকি জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপস্থিতিতে টাকা ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করেও সে তা ভঙ্গ করেছে।”
গত ১৩ জানুয়ারি পাওনা টাকা চাইতে গেলে ইব্রাহিম তার বসতবাড়ির সামনে বিবি হালিমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং টাকা দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। টাকা না পাওয়ায় ভুক্তভোগী গৃহবধূর পরিবারে অশান্তি বিরাজ করছে।এই বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে বিবি হালিমা বিজ্ঞ আদালতে দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০ এবং ৫০৬(২) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার সংযুক্তিতে স্ট্যাম্পের চুক্তিনামা ও পুলিশ সুপারের নিকট করা অভিযোগের কপি দাখিল করা হয়েছে।এ বিষয়ে স্থানীয় মেম্বার ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, টাকা লেনদেনের বিষয়টি সত্য। ইব্রাহিমকে বারবার টাকা ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও সে কোনো তোয়াক্কা করছে না। ভুক্তভোগী পরিবারটি এখন প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছে।