
আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের প্রায় সাড়ে ১০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও সমমানের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন।বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিএনপির সংসদ সদস্য সেলিম রেজার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান।তিনি বলেন, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের ২ হাজার ৩৩৬টি কারিগরি প্রতিষ্ঠান ও ৮ হাজার ২৩২টি মাদ্রাসায় ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা চালু করা হবে। এছাড়া প্রায় দেড় হাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ এবং প্রতিটি জেলায় একটি করে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিক করতে স্মার্ট ক্লাসরুম চালু, শিক্ষক প্রশিক্ষণ জোরদার এবং কারিগরি কোর্স অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ হিসেবে নতুন প্রজন্মকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তুলতে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে দেড় হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা দেওয়া এবং শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য ইউনিক ‘এডু-আইডি’ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
আইসিটি খাতে দক্ষতা বাড়াতে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) আগামী ছয় মাসের মধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সাইবার সিকিউরিটি, মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট (ফ্লাটার), পাইথন প্রোগ্রামিং এবং এআইভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে বলেও তিনি জানান।এছাড়া শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে জিডিপির ৫ শতাংশ পর্যন্ত উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে ৪৩টি অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ এবং পর্যায়ক্রমে মিড-ডে মিল চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। একইসঙ্গে নারী শিক্ষার প্রসারে প্রতিটি উপজেলা সদরে একটি করে মহিলা কলেজ সরকারিকরণের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।