
নিজস্ব প্রতিবেদক:
উওরার মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ঘটে যাওয়া হৃদয় বিদারক দুর্ঘটনার হাত থেকে মাএ তিন মিনিটের জন্য বেঁচে গেলো আশুলিয়ার কৃতি সন্তান বাংলাদেশ তথ্য ও মানবাধিকার ফাউন্ডেশন(বামাফা) ঢাকা বিভাগীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম সরকারের মেজো মেয়ে সুমাইয়া সরকার সানিয়া (১১) ষষ্ঠ শ্রেনী।
প্রতিদিন স্কুল ১ ঘটিকায় ছুটি হয়। তারপর কুচিং হয় ৪ টা পর্যন্ত । ঐ দিন সুমাইয়া সরকার সানিয়ার নাকি হঠাৎ শরীর খারাপ লাগিতেছিল তাই সানিয়া কোচিং না করে ছুটি নিয়ে বাহিরে আসার তিন মিনিটের মধ্যেই বিমান টি আঘাত হেনেছে। এভাবেই ওকে মহান আল্লাহতালা রক্ষা করেছে পরিবারের দাবি। মেয়েকে জীবিত অবস্থায়ই ফিরে পেয়ে বাবা,মা,বোন পরিবারের সবাই আনন্দ কেঁদে ফেলেছেন।আর আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছেন। হয়তো আল্লাহর অশেষ রহমতে আমার মেয়েকে জীবিত ফিরে পেয়েছি। তবে যে হৃদয় বিদারক ঘটনা আমার মেয়ের মতো কত ছেলে,মেয়ে আহত হয়েছে, মৃত্যু বরণ করেছে কষ্টে বুকটা ফেটে যাচ্ছে। কি নির্মম মৃত্যু কাছে থেকে দেখলাম। এরকম দুর্ঘটনা কখনো কাছে থেকে দেখি নাই কখনো। সাথে সাথে আমার মেয়েকে তার মায়ের কাছে দিয়ে আমি ও সেনাবাহিনীর পাশাপাশি উদ্ধার কাজের জন্য ঝাপিয়ে পরি। যতটুকু পারছি সহযোগিতা করেছি। আমি দোয়া করি যারা অসুস্থ তারা যেনো তারাতাড়ি সুস্থ হয়ে যায়। যারা মৃত্যু বরণ করেছেন তাদের জন্য দোয়া করি আল্লাহ তাদের জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন আমিন। তাদের সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।

সরজমিনে কথা বলে জানা যায় ক্লাস চলছিল স্বাভাবিক নিয়মে, কেউ ভাবেনি এই নিরীহ দুপুর টায় আকাশ থেকে আগুন নামবে। কেউ জানতো না, জানালার ওপার থেকে ছুটে আসা একটি বিমান ঠিক ক্যানটিনের ছাদে গিয়ে বিধ্বস্ত হবে, আর নিমিষেই গলিয়ে দেবে শিশুর চুল, পোড়াবে তাদের গলার স্বর, থেমে যাবে স্বপ্ন দেখার চলমান ক্লাস।
চারপাশে তখন শুধু ধোঁয়া কালো, দহন জ্বালায় ঘোলা ধোঁয়া, যেটার গন্ধে মায়ের কোল আর ঘরের ছাদ যেন অনন্তকাল দূরের কোনো গল্প হয়ে যায়। কেউ একজন হয়তো তখনও বানিয়ে যাচ্ছিল চার লাইনের একটা কবিতা, আর পাশের জন অনুপস্থিত বন্ধুর খাতা নিয়ে ক্লাসনোট তুলছিল— কিন্তু সবকিছু মুহূর্তেই থেমে গেল।
দেয়ালের ওপাশ থেকে ভেসে এলো এমন কিছু শব্দ, যা কোনো ভাষার অভিধানে লেখা নেই— পুড়ে যাওয়া কাপড়ের শব্দ, নিঃশেষ হয়ে যাওয়া নিঃশ্বাসের শব্দ, আর মা-মা করে কাঁদতে থাকা সেই শেষ কণ্ঠস্বর।
আমরা যারা এখন বাইরে থেকে তাকিয়ে দেখছি, আমাদের কিছুই করার নেই। কেবল বুকের ভেতরটা ধ্বসে যেতে যেতে দু’হাত তুলে প্রার্থনা করতে পারি হে আল্লাহ, এই ভয়াবহতা থেকে আমাদের রক্ষা করুন, যারা ঘরে ফিরবে না—তাদের মা যেন অন্তত একটা শেষ চুমু দিতে পারে। আর যারা আজ বেঁচে যাবে তাদের স্বপ্ন গুলো যেন আর কখনও আগুন না ছুঁয়ে যায়।