
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার গুজাদিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর রামনগর ওয়ার্ডের কাঠমিস্ত্রী ফখরুল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিচার দাবিতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। গুরুতর আহত অবস্থায় দীর্ঘ ১৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে ফখরুল প্রতিদিনের মতো ঘাস কেটে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় পূর্বশত্রুতার জেরে রহিম, আশিক, মোফাজ্জল, মাছুম ও সোহাগসহ কয়েকজন তাকে একা পেয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ স্থানান্তর করা হয়। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ দিন পর তিনি মারা যান।নিহতের বড় মেয়ে প্রিয়া আক্তার বলেন, “আমার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাই।”ঘটনার প্রতিবাদে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি রামনগর থেকে শুরু হয়ে করিমগঞ্জ থানা হয়ে উপজেলা সদরে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় “খুনি কেন বাইরে” ও “ফখরুল হত্যার বিচার চাই” স্লোগানে মুখরিত হয় পুরো এলাকা।
গুজাদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ মাসুদ বলেন, এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।এ বিষয়ে করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমরানুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে তিনজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।