
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ। একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ভবঘুরে মায়ের গর্ভে জন্ম নেওয়া অসহায় নবজাতককে নতুন জীবনের সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি।জানা যায়, উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নে এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারী রাস্তার পাশে বসবাস করছিলেন। তার গর্ভে জন্ম নেয় একটি নবজাতক শিশু। মা নিজেই অসহায় ও অনিরাপদ অবস্থায় থাকায় শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।
এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান ইউএনও শামীমা আফরোজ মারলিজ। শিশুটির প্রতি দায়িত্ব নিতে আগ্রহী একাধিক নিঃসন্তান দম্পতির মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে তিনি একটি উপযুক্ত পরিবার নির্বাচন করেন।পরে সকলের উপস্থিতিতে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নবজাতক শিশুটিকে ওই দম্পতির কাছে লালন-পালনের জন্য হস্তান্তর করা হয়। এসময় শিশুটির নিরাপত্তা, সঠিক পরিচর্যা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পরিবারের কাছ থেকে অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই জানান, ইউএনও শুধু একটি শিশুর জীবন রক্ষা করেননি, বরং একটি নিঃসন্তান পরিবারকে নতুন আশার আলো দেখিয়েছেন। প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা হয়েও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির এমন উদাহরণ সত্যিই প্রশংসনীয়।স্থানীয়রা আরও বলেন, “মায়ের কোনো পরিচয় না থাকলেও শিশুটির তো একটি সুন্দর ভবিষ্যতের অধিকার রয়েছে। ইউএনও সেই অধিকার নিশ্চিত করেছেন।”
এ বিষয়ে ইউএনও শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, “মানবিক দিক বিবেচনায় এবং স্থানীয়দের সঙ্গে পরামর্শ করে শিশুটির জন্য একটি নিরাপদ ও উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি। শিশুটির সার্বিক সুরক্ষা ও যত্ন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”এসময় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, দত্তকগ্রহণকারী পরিবারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।মানবিক এই উদ্যোগে এলাকাবাসী ইউএনওর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং নবজাতক শিশুটির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন।