
ইরান থেকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ)। এ ঘটনার পর দেশটির বিভিন্ন শহর ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় সাধারণ মানুষকে হোম ফ্রন্ট কমান্ডের জারি করা নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে বলা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসরায়েলি বিমানবাহিনী ইতোমধ্যে সক্রিয়ভাবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে আসা হুমকি প্রতিহত করার চেষ্টা করছে। প্রয়োজনে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের উৎস ধ্বংস করাসহ হুমকি নির্মূলের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানানো হয়।
এরই মধ্যে কয়েকটি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক গণমাধ্যম ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার খবর প্রকাশ করেছে, যদিও এসব বিস্ফোরণের প্রকৃতি ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।এদিকে শনিবার ভোরে তেহরানের পাঁচটি ভিন্ন স্থানে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়। হামলায় অংশ নেয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইসরায়েলি গণমাধ্যম Jerusalem Post জানিয়েছে, এই হামলাগুলো এমন সব স্থাপনা ও লক্ষ্যবস্তুতে পরিচালিত হয়েছে, যেগুলো ইসরায়েল এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা Reuters-কে জানান, পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এই সামরিক অভিযান ধাপে ধাপে আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হামলা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আকাশপথ ও সমুদ্রপথ—উভয় দিক থেকেই এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে, যা সংঘাতের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।ইরানি রাষ্ট্রীয় ও আধা-রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)-এর ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টরেট এবং তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এসব হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ইরান সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে, ফলে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
একই সঙ্গে Reuters-এর আরেকটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ayatollah Ali Khamenei বর্তমানে তেহরানে অবস্থান করছেন না। একজন ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, নিরাপত্তাজনিত কারণে তাকে একটি ‘নিরাপদ স্থানে’ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।অন্যদিকে, ইসরায়েলের একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা একই সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, এই অভিযানের পরিকল্পনা হঠাৎ নেওয়া হয়নি। বরং কয়েক মাস ধরেই এর প্রস্তুতি চলছিল এবং কয়েক সপ্তাহ আগে চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে এবং এর প্রভাব আঞ্চলিক রাজনীতির পাশাপাশি বৈশ্বিক কূটনীতিতেও পড়তে পারে।