শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৭ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
ইরানের কাছে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি ট্রাম্পের সব স্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী যানবাহনে তেল নেওয়ার সীমা বেঁধে দিল বিপিসি পাগলা মসজিদে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে মানববন্ধন ইসরায়েলের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা ‎হবিগঞ্জে বিজিবির অভিযানে ট্রাক ভর্তি পাথরের নিচে লুকানো ২ কোটি ৪ লক্ষ টাকার ভারতীয় কসমেটিকস জব্দ বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় স্কুল ছাত্রী অপহরণ উৎকন্ঠায় পরিবার টঙ্গীবাড়ীতে ড্রেজার নিয়ে দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব: এক পক্ষের অভিযোগ নিলেও অপর পক্ষেরটি নেয়নি পুলিশ ঢাকা ১৯ এর সংসদ সদস্য ডাক্তার দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর নেতৃত্বে চাঁদাবাজী ও মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সাভারের আশুলিয়ায় নিজেই অভিযানে নামলেন এমপি ডাক্তার দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু চাঁদাবাজ আটক ২ 

যানবাহনে তেল নেওয়ার সীমা বেঁধে দিল বিপিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
                                             
  •   Update Time : শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬
  • ৫k Time View  
  •                                      
                                   
                               
যানবাহনে তেল নেওয়ার সীমা বেঁধে দিল বিপিসি
যানবাহনে তেল নেওয়ার সীমা বেঁধে দিল বিপিসি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে হঠাৎ করেই তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়তে থাকায় এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর, যার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। সম্ভাব্য তেল সংকটের আশঙ্কায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল নিতে মানুষের ভিড় বেড়ে গেছে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং কৃত্রিম সংকট বা মজুতদারি ঠেকাতে জ্বালানি তেল বিক্রির ওপর সীমা আরোপ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

শুক্রবার (৬ মার্চ) জারি করা এক জরুরি নির্দেশনায় বিপিসি জানিয়েছে, আপাতত প্রতিটি যানবাহনের জন্য দৈনিক নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি জ্বালানি তেল সরবরাহ করা যাবে না। নতুন এই নির্দেশনা অনুযায়ী, একটি মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রোল বা অকটেন নিতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ি বা কারের ক্ষেত্রে দৈনিক সর্বোচ্চ ১০ লিটার পেট্রোল বা অকটেন সরবরাহ করা হবে। এছাড়া এসইউভি (জিপ) ও মাইক্রোবাসের জন্য দৈনিক সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ থেকে ২৫ লিটার পেট্রোল বা অকটেন।

ডিজেলচালিত বড় যানবাহনের ক্ষেত্রেও আলাদা সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। পিকআপ ও লোকাল বাস দিনে সর্বোচ্চ ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল নিতে পারবে। অন্যদিকে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক এবং কাভার্ড ভ্যানের জন্য দৈনিক জ্বালানি তেলের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ থেকে ২২০ লিটার ডিজেল।

বিপিসি জানিয়েছে, বাংলাদেশের মোট জ্বালানি তেলের চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। এ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে বাজারে নানা ধরনের গুজব ও নেতিবাচক খবর ছড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে অনেক সাধারণ গ্রাহক ও কিছু ডিলার প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করে রাখার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

বিপিসির মতে, অতিরিক্ত তেল কেনা ও অবৈধভাবে মজুত করার প্রবণতা তৈরি হলে বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখা দিতে পারে। এই পরিস্থিতি প্রতিরোধ করতেই আপাতত তেলের সরবরাহে সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, জ্বালানি তেলের বাজারে আতঙ্ক বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ঠেকাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, দেশের জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য বিদেশ থেকে আমদানি কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চলমান রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী জ্বালানি তেলের চালান দেশে পৌঁছাচ্ছে। পাশাপাশি দেশের প্রধান জ্বালানি স্থাপনা থেকে বিভিন্ন ডিপোতে নিয়মিতভাবে রেল ওয়াগন ও ট্যাংকারের মাধ্যমে তেল পাঠানো হচ্ছে। এতে করে খুব শিগগিরই দেশে পর্যাপ্ত বাফার স্টক বা নিরাপদ মজুত গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা করছে বিপিসি।

এছাড়া তেল বিক্রির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন কিছু নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে প্রতিটি ফিলিং স্টেশনকে গ্রাহকদের তেলের ধরন, পরিমাণ এবং দাম উল্লেখ করে রসিদ দিতে হবে। একই সঙ্গে কোনো গ্রাহক পুনরায় তেল নিতে এলে তাকে আগের ক্রয়ের রসিদ প্রদর্শন করতে হবে। এর মাধ্যমে একই ব্যক্তি বা যানবাহনের নামে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

ডিলারদের ক্ষেত্রেও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফিলিং স্টেশনগুলোকে তাদের জ্বালানি তেলের মজুত ও বিক্রির তথ্য নিয়মিতভাবে সংশ্লিষ্ট ডিপোতে জমা দিতে হবে। ডিলারদের নতুন করে তেল সরবরাহের আগে তাদের বর্তমান বরাদ্দ ও মজুতের হিসাব পর্যালোচনা করা হবে। কোনো অবস্থাতেই নির্ধারিত বরাদ্দের বেশি তেল সরবরাহ করা যাবে না বলেও নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই সাময়িক ব্যবস্থা কার্যকর হলে বাজারে অযৌক্তিক আতঙ্ক কমবে এবং জ্বালানি তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা সহজ হবে। পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে অপ্রয়োজনে অতিরিক্ত তেল মজুত না করার জন্যও অনুরোধ জানিয়েছে বিপিসি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
© All rights reserved © 2025 dailydhakabani
themesba-lates1749691102