
রাজধানীতে রুমমেটকে হত্যার পর মরদেহ সাত খণ্ড করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে হবিগঞ্জের শাহিন আলম নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত শাহীন আলম হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।রোববার ঢাকা মহানগর পুলিশর (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার হারুন-অর-রশীদ মিন্টো রোডের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, শাহীন রাজধানীর মতিঝিলে রুমমেট মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহকে হত্যার পর মরদেহ সাত টুকরো করে ঢাকার পাঁচটি স্থানে ফেলে আসেন। কালো পলিথিনে ভরে তিনি শুক্রবার রাত ১২টা থেকে শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে মরদেহের অংশগুলো ফেলে দেন।শনিবার নয়াপল্টনের স্কাউট ভবনের সামনে প্রথমে একটি কাটা পা উদ্ধার করে পুলিশ। পরে গুলিস্তান স্টেডিয়ামের ১৩ নম্বর গেটের কাছে দুটি কাটা হাত এবং কমলাপুর রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম থেকে আরও একটি পা উদ্ধার করা হয়। আঙুলের ছাপের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত হয়।
নিহত ওবায়দুল্লাহ নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার বাসিন্দা এবং গণস্বাস্থ্য হোমিও ক্লিনিক-এর বিপণন বিভাগে কর্মরত ছিলেন। তার সূত্র ধরে পুলিশ শনিবার দুপুরে শাহীনকে গ্রেপ্তার করে।পুলিশ জানায়, তিন মাস আগে হবিগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসে গুলিস্তানের একটি হোটেলে চাকরি নেন শাহীন। পরে কম বেতনের কারণে চাকরি ছেড়ে বন্ধুর মাধ্যমে মতিঝিলে বসবাস শুরু করেন। বন্ধু মারুফ হবিগঞ্জে চলে গেলে তিনি ওবায়দুল্লাহর সঙ্গে কবি জসীম উদ্দীন রোডের একটি বাসার ছয়তলায় থাকতেন।ঘটনার রাতে ওবায়দুল্লাহর সঙ্গে সিগারেট ও খাবার কেনা নিয়ে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে শাহীন ক্ষিপ্ত হয়ে রান্নাঘরের চাপাতি দিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করেন।
পরে মরদেহ খণ্ড করে কালো পলিথিনে ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন তিনি।পুলিশ জানায়, শাহীন মরদেহের বিভিন্ন অংশ নয়াপল্টন, গুলিস্তান, কমলাপুর ও আমিনবাজার এলাকার বিভিন্ন স্থানে ফেলে আসেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ময়লার ভাগাড় থেকে মাথা উদ্ধার করেছে, তবে মরদেহের বুকের অংশ এখনো পাওয়া যায়নি।ঘটনার পর মতিঝিল থানায় শাহীন আলমের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে।