
টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর–বাসাইল) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) বর্তমান সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলামকে বাবা–মায়ের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়েছে। আজ সোমবার বিকেলে জানাজা শেষে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বেড়বাড়ী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
এর আগে আজ দুপুর ১২টার দিকে টাঙ্গাইল জেলা কোর্ট চত্বরে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে লাশ নিয়ে যাওয়া হয় গ্রামের বাড়ি একই উপজেলার বেড়বাড়ীতে। সেখানে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। বেলা তিনটার দিকে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকীসহ জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।
গার্ড অব অনার অনুষ্ঠানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার তৌফিক ইসলাম। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুন্নাহার শিলা প্রথম আলোকে বলেন, ‘সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রনী ছুটিতে থাকায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয়ের নির্দেশনায় তৌফিক ইসলাম ওই অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম।’
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন জোয়াহেরুল ইসলাম। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি ভারতে পালিয়ে ছিলেন। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কলকাতার দমদম এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে এক সপ্তাহের বেশি সময় চিকিৎসাধীন থাকার পর শেষ ছয় দিন তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘মাল্টি অর্গান ফেইলিওরের’ কারণে গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
গতকাল রোববার রাতে সাবেক এই সংসদ সদস্যের মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স বাংলাদেশে আসে। পরে তাঁর মরদেহ নেওয়া হয় টাঙ্গাইলের সখীপুরে।স্থানীয় আওয়ামী লীগ সূত্র জানা যায়, জোয়াহেরুল ইসলাম ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর–বাসাইল) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে ২০১৭ সালে তিনি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং দ্বিতীয় মেয়াদেও একই পদে দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রজীবনে তিনি টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।